রাজস্থান হাই কোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব প্রকাশ শর্মার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুললেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সন্দীপ মেহতা। অভিযোগের বিষয়টি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তকে পরপর তিনটি চিঠি লিখেছেন বিচারপতি মেহতা। তাঁর অভিযোগ, রাজস্থান হাই কোর্টে নিয়মবহির্ভূতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মামলা স্থানান্তর, স্বজনপোষণ এবং ক্ষমতার অপব্যবহার চলছে। অবিলম্বে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন তিনি।
সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২ অগস্ট প্রথম চিঠিটি পাঠান বিচারপতি মেহতা। সেখানে রাজস্থান হাই কোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে একাধিক সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে ধরা হয়। অভিযোগের অন্যতম বিষয়, অন্য বেঞ্চে কার্যতালিকাভুক্ত স্পর্শকাতর মামলাগুলি নিয়মবহির্ভূতভাবে নিজের বেঞ্চে স্থানান্তর করে নিচ্ছেন বিচারপতি শর্মা।
এরপর ১০ অগস্ট ফের চিঠি লেখেন বিচারপতি মেহতা। সেখানে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির ভূমিকা নিয়ে আরও বিস্তারিত উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। ১৭ অগস্ট লেখা তৃতীয় চিঠিতে গোটা রাজস্থান হাই কোর্টের প্রশাসনিক ও বিচারিক কার্যপ্রণালী নিয়েই প্রশ্ন তোলেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি।
বিচারপতি মেহতার অভিযোগ, প্রধান বিচারপতির এমন কর্মকাণ্ড তাঁর বিচারিক মূল্যবোধ নিয়েই প্রশ্ন তৈরি করছে। স্বজনপোষণ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মতো গুরুতর অভিযোগও তোলা হয়েছে চিঠিগুলিতে। এমনকি তিনি রাজস্থান হাই কোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিকে পদ থেকে সরানোর দাবিও জানিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
বিচারব্যবস্থার অন্দরে এই ঘটনা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, কোনও হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টেরই কোনও বিচারপতির এভাবে ধারাবাহিক লিখিত অভিযোগ জানানোর ঘটনা অত্যন্ত বিরল।
জানা গিয়েছে, বিচারপতি সঞ্জীব প্রকাশ শর্মা এর আগেও রাজস্থান হাই কোর্টে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরে তাঁকে হরিয়ানা হাই কোর্টে বদলি করা হয়। তবে স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে তিনি রাজস্থান হাই কোর্টে ফিরে আসতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। পরবর্তী সময়ে তাঁকে ফের রাজস্থান হাই কোর্টে বদলি করা হয়। বর্তমানে তিনি ওই হাই কোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তবে অভিযোগগুলির বিষয়ে বিচারপতি সঞ্জীব প্রকাশ শর্মার পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া বা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রকাশ্যে এসেছে কি না, তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট তথ্য মেলেনি। অভিযোগের সত্যতা এবং পরবর্তী পদক্ষেপ এখন সুপ্রিম কোর্টের প্রশাসনিক স্তরে নজরদারির বিষয়।


