একসময় দেশের অন্যতম পরিচিত শিল্পপতি ছিলেন জি গ্রুপের কর্ণধার তথা প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ সুভাষ চন্দ্র। এসেল গ্রুপের বিভিন্ন ব্যবসা এবং সংবাদমাধ্যমের জগতে তাঁর যথেষ্ট প্রভাব ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে ব্যবসায় বড় ধাক্কা আসে। বিপুল ঋণের বোঝা সামলাতে না পেরে শেষ পর্যন্ত ঋণখেলাপির সমস্যায় জড়িয়ে পড়েন তিনি। এবার সেই ঋণ সংক্রান্ত মামলায় বড়সড় স্বস্তি পেলেন সুভাষ চন্দ্র।ন্যাশনাল কোম্পানি ল’ ট্রাইব্যুনাল বা এনসিএলটি তাঁর দেওয়া ঋণ পরিশোধের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে। সেই প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রায় ২২ হাজার ৬ কোটি টাকার দায়ের পরিবর্তে ব্যক্তিগত সম্পত্তি থেকে মাত্র ৬ কোটি ২৫ লক্ষ টাকা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন সুভাষ চন্দ্র। অর্থাৎ মোট বকেয়া টাকার তুলনায় এই পরিমাণ অত্যন্ত সামান্য।জানা গিয়েছে, সুভাষ চন্দ্র আদালতে জানিয়েছিলেন, তাঁর পক্ষে বিপুল অঙ্কের ঋণ শোধ করা সম্ভব নয়। নিজের সম্পত্তি থেকে তিনি সর্বোচ্চ ৬ কোটি ২৫ লক্ষ টাকা দিতে পারবেন। এরপর তাঁর প্রস্তাব নিয়ে ঋণদাতা সংস্থাগুলির মতামত নেওয়া হয়। প্রায় ৮০ শতাংশ ঋণদাতা এই পরিকল্পনাকে সমর্থন করেন।তবে সবাই এই সিদ্ধান্তে একমত ছিল না। এলআইসি হাউসিং ফাইনান্স, এইচডিএফসি, অ্যাক্সিস ব্যাঙ্ক এবং কানারা ব্যাঙ্ক-সহ কয়েকটি সংস্থা প্রস্তাবটির বিরোধিতা করে। তাদের যুক্তি ছিল, এত বড় অঙ্কের বকেয়ার তুলনায় ফেরত পাওয়া অর্থ অত্যন্ত কম।অন্যদিকে, প্রস্তাবের পক্ষে থাকা ঋণদাতাদের বক্তব্য ছিল, এই পরিকল্পনা গ্রহণ না করলে আদৌ কত টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হবে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। সেই কারণেই সংখ্যাগরিষ্ঠের মত অনুযায়ী প্রস্তাবটি গ্রহণ করা হয়।এনসিএলটির অনুমোদনের পর ৬ কোটি ২৫ লক্ষ টাকা সংশ্লিষ্ট ঋণদাতাদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হবে। ফলে প্রায় ৯৯.৯৭ শতাংশ ঋণের দায় থেকে মুক্তি পাবেন সুভাষ চন্দ্র।বিষয়টি বোঝাতে এলআইসি হাউসিং ফাইনান্সের ঋণের উদাহরণ সামনে এসেছে। ওই সংস্থার কাছে প্রায় ১,৩২২ কোটি টাকা বকেয়া থাকলেও চুক্তি অনুযায়ী তারা মাত্র ৩৯ লক্ষ টাকা পাবে।এনসিএলটি আরও জানিয়েছে, যে ঋণদাতা সংস্থাগুলি এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছিল, তাদেরও আদালতের অনুমোদিত সিদ্ধান্ত মেনে চলতে হবে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলা এই ঋণ সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় আপাতত বড় স্বস্তি পেলেন সুভাষ চন্দ্র।
২২ হাজার কোটির ঋণ মিটল মাত্র ৬.৫ কোটিতে! NCLT-র রায়ে স্বস্তি জি-গ্রুপের কর্ণধার তথা প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ সুভাষ চন্দ্রের
Popular Categories


