চিনির দাম বাড়া নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সরব হল কংগ্রেস। বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠক করে কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ ও এআইসিসি মুখপাত্র রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা অভিযোগ করেন, কেন্দ্রের ভুল নীতির কারণেই সাধারণ মানুষকে বেশি দামে চিনি কিনতে হচ্ছে। তাঁর দাবি, অগস্ট থেকে নভেম্বর পর্যন্ত চার মাসে বাড়তি দামের কারণে সাধারণ মানুষের পকেট থেকে প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত বেরিয়ে যেতে পারে।
কংগ্রেসের বক্তব্য, উৎসবের মরশুমে দেশে চিনির চাহিদা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেকটাই বেড়ে যায়। সাধারণ সময়ে প্রতি মাসে প্রায় ২৪ লক্ষ মেট্রিক টন চিনি প্রয়োজন হলেও উৎসবের সময় সেই চাহিদা বেড়ে প্রায় ৩০ লক্ষ মেট্রিক টনে পৌঁছয়। এই পরিস্থিতিতে বাজারে পর্যাপ্ত চিনি না থাকলে দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা থাকে।
সুরজেওয়ালার দাবি, চিনির দাম কেজিপিছু ৪৫ টাকা বেড়ে ৭৭ টাকায় পৌঁছেছে। তাঁর হিসাব অনুযায়ী, চার মাসে প্রায় ১২০ লক্ষ মেট্রিক টন চিনির প্রয়োজন হবে। সেই পরিমাণ চিনির ক্ষেত্রে বাড়তি দামের প্রভাব ধরলে প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকার বোঝা তৈরি হতে পারে। এই পরিস্থিতির জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের নীতিকেই দায়ী করেছেন তিনি।
কংগ্রেস আরও দাবি করেছে, গত আর্থিক বছরের তুলনায় দেশে চিনির মজুত প্রায় ৩০ লক্ষ মেট্রিক টন কমেছে। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ইন্ডিয়ান সুগার মিল অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছিল, দেশে প্রায় ২৭৫ লক্ষ মেট্রিক টন চিনি উৎপাদন হতে পারে। যদিও কেন্দ্রের পূর্বাভাস ছিল উৎপাদন হবে প্রায় ৩৪৩ লক্ষ মেট্রিক টন। উৎপাদন ও মজুত নিয়ে এই পার্থক্য বাজারে প্রভাব ফেলেছে বলেই কংগ্রেসের অভিযোগ।
এই অবস্থায় ইউপিএ আমলের একটি ব্যবস্থা ফের চালু করার দাবি তুলেছে কংগ্রেস। তাদের প্রস্তাব, উৎসবের সময়ে রেশন দোকানের মাধ্যমে পরিবারপিছু নয়, জনপ্রতি মাসে ৫০০ গ্রাম করে চিনি দেওয়া হোক। কংগ্রেসের দাবি, নরেন্দ্র মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০১৭ সালে এই ব্যবস্থা বন্ধ করে দেয়। কংগ্রেসের এই দাবিকে সমর্থন জানিয়েছে অল ইন্ডিয়া ফেয়ার প্রাইস শপ ডিলার্স ফেডারেশন। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসু কেন্দ্রীয় খাদ্যমন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশীকে চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানিয়েছেন।
একই সঙ্গে ব্রাজিল থেকে কাঁচা চিনি আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে কংগ্রেস। সুরজেওয়ালার বক্তব্য, ২০ অগস্ট আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও সেই চিনি দেশে পৌঁছতে ৪০ থেকে ৪৫ দিন লাগতে পারে। এরপর তা পরিশোধন করে বাজারে আনতে আরও সময় প্রয়োজন। ফলে উৎসবের মরশুমে এই উদ্যোগ কতটা কাজে আসবে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন তিনি।
এদিন পেঁয়াজের দাম নিয়েও কেন্দ্রকে আক্রমণ করে কংগ্রেস। যদিও দিল্লিতে সরকারি উদ্যোগে নাফেড, এনসিসিএফ এবং কেন্দ্রীয় ভাণ্ডারের মাধ্যমে ৩৫ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু হয়েছে। রাজধানীর ৪০টি জায়গায় মোবাইল ভ্যানের মাধ্যমেও পেঁয়াজ বিক্রি হবে। তবে দিল্লির বাইরে একই সুবিধা সাধারণ মানুষ কবে পাবেন, তা নিয়ে কেন্দ্র এখনও স্পষ্ট কিছু জানায়নি বলে অভিযোগ কংগ্রেসের।


