দুর্গাপুজোর আগে প্রতিমা তৈরির কাজ যখন পুরোদমে চলছে, ঠিক সেই সময় নবান্নের কাছে কয়েকটি নির্মীয়মাণ মাটির প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল। শিবপুরের মন্দিরতলা এলাকায় দ্বিতীয় হুগলি সেতুর নিচে একটি প্রতিমা তৈরির কারখানার সামনে রাখা একাধিক প্রতিমা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ। ঘটনায় তদন্তে নেমে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে শিবপুর থানার পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত যুবকের নাম সাহেব সিং রাজ। তাঁর বাড়ি শিবপুরের গোলাম মুস্তাফা লেনে। শুক্রবার গভীর রাতে ঘটনাটি ঘটে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে। শনিবার সকালে প্রতিমাগুলি ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান কারখানার মালিক অচিন্ত্য ভট্টাচার্য। বিষয়টি জানাজানি হতেই এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
মন্দিরতলা এলাকায় দ্বিতীয় হুগলি সেতুর নিচে দীর্ঘদিন ধরে মাটির প্রতিমা তৈরির কাজ হয়। দুর্গাপুজো সামনে থাকায় বর্তমানে সেখানে কাজও চলছে জোরকদমে। তৈরি হওয়া প্রতিমাগুলি জায়গার অভাবে মন্দিরের সামনের অংশে রাখা হয়েছিল। অভিযোগ, রাতের দিকে কেউ সেই প্রতিমাগুলি একে একে রাস্তায় ফেলে দেয়। এর ফলে বেশ কয়েকটি প্রতিমার হাত, পা-সহ বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ঘটনার তদন্তে নেমে প্রথমেই এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে পুলিশ। ফুটেজ খতিয়ে দেখে এক ব্যক্তির গতিবিধি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয় তদন্তকারীদের। পরে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করে পুলিশ জানতে পারে, ওই ব্যক্তি সাহেব সিং রাজ। এরপর তাঁর বাড়িতে গিয়ে তাঁকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা, ঘটনার পিছনে কোনও বড় ধরনের নাশকতার যোগ নেই। বরং প্রতিমা তৈরির কারখানার মালিকের সঙ্গে ধৃত যুবকের পুরনো বিবাদ থেকেই এই ঘটনা ঘটতে পারে। পুলিশ জানতে পেরেছে, মন্দিরের সামনে প্রতিমা রাখা নিয়ে আগে থেকেই দু’জনের মধ্যে একাধিকবার কথা কাটাকাটি হয়েছিল।
পুলিশের অনুমান, সেই পুরনো বিরোধের জেরেই শুক্রবার রাতে মদ্যপ অবস্থায় রাগের মাথায় প্রতিমাগুলির উপর হামলা চালান সাহেব। তবে পুরো ঘটনার পিছনে আর কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি ভাঙচুরের ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও জানার চেষ্টা চলছে। দুর্গাপুজোর মুখে এমন ঘটনায় প্রতিমা শিল্পীদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।


