দুর্গাপুজোর সময়ে বাঙালির পাতে কি আর উঠবে না মাছ-মাংস? পুজোর মরসুম যত এগিয়ে আসছে, এই প্রশ্ন নিয়েই জোর চর্চা শুরু হয়েছে। ফেসবুক, এক্স-সহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়ছে নানা ধরনের পোস্ট। কোথাও দাবি করা হচ্ছে, পুজোর দিনগুলিতে আমিষ খাবার বিক্রি এবং মণ্ডপের আশপাশে আমিষের স্টল বসানোর ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে।
বিশ্ব হিন্দু পরিষদের তরফে এ ধরনের কোনও নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে বলেও আলোচনা চলছে। তবে সেই দাবিরও এখনও নির্দিষ্ট কোনও সরকারি বা সংগঠনভিত্তিক নিশ্চিত প্রমাণ মেলেনি। ফলে বিষয়টি নিয়ে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি। এর মধ্যেই বাগেশ্বর ধামের পীঠাধীশ্বর ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রীর একটি মন্তব্য নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। দুর্গাপুজোর সময়ে আমিষ খাবার খাওয়ার বিরোধিতা করে তিনি মত প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্যের পরেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, তবে কি পুজোর সময়ে বাঙালির খাবারের অভ্যাসেও কোনও বিধিনিষেধ আসতে চলেছে?
এই পরিস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট মত জানালেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। সাংবাদিক বৈঠকে তাঁকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কার্যত জানিয়ে দেন, বাংলার মানুষ কী খাবেন, সেই সিদ্ধান্ত অন্য কেউ চাপিয়ে দিতে পারেন না।
শমীক বলেন, বাঙালির দুর্গাপুজোর সঙ্গে খাবারেরও দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। তাঁর কথায়, নবমীর দিন বহু বাঙালি বাড়িতে পাঁঠার মাংস রান্না করেন। অষ্টমীতেও লুচি-সহ নানা খাবারের আয়োজন হয়। এমনকি রসিকতা করে তিনি জানান, নবমীর দিন কেউ তাঁকে পাঁঠার মাংস খাওয়ার জন্য নিমন্ত্রণ করলে তিনি নিজেও সেখানে যেতে রাজি। তাঁর সঙ্গে বিজেপির অনেক কর্মীও যেতে পারেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রীর মন্তব্য প্রসঙ্গে শমীক বলেন, তিনি একজন ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব এবং নিজের বিশ্বাস অনুযায়ী মতামত প্রকাশ করতেই পারেন। তাঁর বহু অনুগামী রয়েছে এবং দেশজুড়ে তিনি পরিচিত। ।
শমীকের বক্তব্য, বর্তমানে অনেক মানুষ স্বেচ্ছায় নিরামিষ খাবার বেছে নিচ্ছেন, কেউ আবার ভেগান জীবনযাপন করছেন। কিন্তু সেটি ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয়। তাই কোনও ধর্মীয় ব্যক্তির মতামতকে সম্মান করা যেতে পারে, কিন্তু তা সবার জন্য বাধ্যতামূলক নিয়ম হয়ে যেতে পারে না। দুর্গাপুজোয় আমিষ খাবার নিষিদ্ধ হবে কি না, সেই জল্পনার মধ্যেই তাঁর এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।


