পরীক্ষার ফল প্রকাশ এবং দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করার দাবিতে পথে নেমেছিলেন চাকরিপ্রার্থী ও শিক্ষকরা। সোমবার আনোয়ার শাহ রোডে পাবলিক সার্ভিস কমিশন (PSC)-এর দফতরের সামনে সেই কর্মসূচিকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণভাবে দাবি জানাতে গিয়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়তে হয় তাঁদের। একাধিক আন্দোলনকারীকে মারধর করা হয় এবং লাঠিচার্জ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। কয়েকজনকে প্রিজন ভ্যানে তুলে লালবাজারে নিয়ে যাওয়া হয় বলে দাবি তাঁদের।আন্দোলনকারীদের আরও অভিযোগ, বিক্ষোভে অংশ নেওয়া মহিলাদের সঙ্গেও পুলিশ দুর্ব্যবহার করেছে। তাঁদের ধাক্কাধাক্কি, মারধর এবং কটূক্তি করা হয়েছে বলে অভিযোগ। যদিও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ওঠা এই অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনের তরফে বিস্তারিত বক্তব্য এখনও সামনে আসেনি।চাকরিপ্রার্থীদের মূল দাবি, দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা পরীক্ষার ফল দ্রুত প্রকাশ করতে হবে। তাঁদের বক্তব্য, ২০২৩ সালে PSC-র মিসলেনিয়াস মেইন পরীক্ষা হয়েছিল। কিন্তু ২০২৬ সাল এসে গেলেও তার ফল এখনও প্রকাশিত হয়নি। ফলে বহু পরীক্ষার্থী বছরের পর বছর অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। তাঁদের দাবি, পরীক্ষার সময় অনেকের বয়স ছিল ৩৩ বছরের কাছাকাছি। এখন তাঁদের বয়স ৩৬-এর আশপাশে পৌঁছে গিয়েছে। নিয়োগের অপেক্ষায় থাকতে থাকতে বয়সের সীমা পেরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।শুধু মিসলেনিয়াস পরীক্ষাই নয়, ২০২৪ সালের ক্লার্কশিপ পরীক্ষার ফল নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন চাকরিপ্রার্থীরা। তাঁদের অভিযোগ, একের পর এক পরীক্ষা নেওয়া হলেও সময়মতো ফল প্রকাশ ও নিয়োগ না হওয়ায় সরকারি চাকরির প্রস্তুতি নেওয়া তরুণদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে।সোমবার ‘ডব্লিউবিপি অ্যান্টিকরাপশন স্টুডেন্টস ইউনিটি’র উদ্যোগে PSC দফতর ঘেরাও কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বৃষ্টির মধ্যেও বহু ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক এবং চাকরিপ্রার্থী সেখানে জমায়েত হন। তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল কমিশনের কর্তাদের সঙ্গে দেখা করে সমস্যার কথা জানানো এবং দ্রুত ফল প্রকাশের দাবি জানানো।সন্ধ্যার দিকে PSC চত্বর খালি করার জন্য পুলিশ আন্দোলনকারীদের নির্দেশ দেয়। এরপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে দাবি আন্দোলনকারীদের। পুলিশের সঙ্গে তাঁদের ধস্তাধস্তি শুরু হয়। পরে কয়েকজনকে আটক করে প্রিজন ভ্যানে তোলা হয়। ঘটনার পর ক্ষোভ আরও বেড়েছে আন্দোলনকারীদের মধ্যে। দ্রুত ফল প্রকাশ করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু না হলে আগামী দিনে আরও বড় কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা। প্রয়োজনে কলকাতার রাস্তায় বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার কথাও জানিয়েছেন চাকরিপ্রার্থীরা।
Popular Categories


