পাহাড়ে উন্নয়নই সরকারের একমাত্র লক্ষ্য। আর সেই উন্নয়নের পথে দুর্নীতিকে কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। GTA-তে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে ফের একবার কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দুর্নীতির অভিযোগে তদন্তের পাশাপাশি এফআইআর এবং গ্রেপ্তারিও হবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয়, দুর্নীতির মাধ্যমে লুট হওয়া টাকা ফেরত নেওয়ার কথাও বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়ে এদিন উত্তরকন্যায় প্রশাসনিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। পরিকল্পনা অনুযায়ী কপ্টারে কালিম্পং যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু পাহাড়ি এলাকায় কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে চপার অবতরণে সমস্যা দেখা দেয়। বেশ কিছুক্ষণ আকাশে চক্কর কাটার পর শেষ পর্যন্ত শিলিগুড়িতে ফিরে আসে কপ্টার। এরপর উত্তরকন্যা থেকেই ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী।
প্রশাসনিক বৈঠকে GTA-র দুর্নীতি প্রসঙ্গ উঠতেই কড়া অবস্থান স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, বিগত সরকারের আমলে GTA-তে একাধিক ক্ষেত্রে দুর্নীতি এবং অর্থ নয়ছয়ের অভিযোগ উঠেছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “১১ বোর্ডের টাকা নয়ছয় হয়েছে। পাহাড়ে পানীয় জল, শিক্ষক দুর্নীতি থেকে একাধিক দুর্নীতি হয়েছে। টাকা লুট হয়েছে।” এরপরই দুর্নীতির অভিযোগে তদন্তের বার্তা দেন তিনি। তাঁর কথায়, “দুর্নীতির ইস্যুতে তদন্ত হবে। এফআইআরও হবে। গ্রেপ্তারিও হবে।”
অর্থাৎ, অভিযোগের তদন্ত শুধু প্রশাসনিক স্তরে সীমাবদ্ধ থাকবে না, প্রয়োজনে আইনি পদক্ষেপও করা হবে বলে স্পষ্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে দুর্নীতির মাধ্যমে যে অর্থ আত্মসাৎ হয়েছে, তা পুনরুদ্ধারের কথাও জানিয়েছেন তিনি।
GTA-কে ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগের পাশাপাশি পাহাড়ের উন্নয়ন নিয়েও এদিন বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, পাহাড়ের উন্নয়নের ক্ষেত্রে কোনও ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। সরকার GTA-র বাজেট দ্বিগুণ করেছে বলেও বৈঠকে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ অর্থ যাতে যথাযথ ভাবে কাজে লাগে, সেই বিষয়েও প্রশাসনকে সতর্ক করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
এদিনের বৈঠকে কালিম্পংয়ে মেডিক্যাল কলেজ তৈরির বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এর জন্য ভূমিপুজোর আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। পাহাড়ে স্বাস্থ্য পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে এই মেডিক্যাল কলেজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে কপ্টার অবতরণে সমস্যা হওয়ায় এদিন সরাসরি কালিম্পং যেতে পারেননি মুখ্যমন্ত্রী।
উত্তরবঙ্গের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়েও আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। ভারী বৃষ্টি, পাহাড়ে ধস এবং তিস্তার পরিস্থিতি নিয়ে খোঁজ নেন তিনি। পাশাপাশি মালদহের বন্যা পরিস্থিতি নিয়েও প্রশাসনের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই GTA-র আর্থিক অনিয়ম এবং দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে সরব হয়েছে নতুন সরকার। এর আগে উত্তরবঙ্গে গিয়ে GTA-র দুর্নীতি নিয়ে মুখ খুলেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও। পাহাড় সমস্যার স্থায়ী সমাধানের বার্তার পাশাপাশি GTA-র প্রশাসনিক ব্যবস্থাতেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি। এবার মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা—GTA-র দুর্নীতির অভিযোগে কাউকে রেয়াত করা হবে না। তদন্তের পাশাপাশি FIR, গ্রেপ্তারি এবং আত্মসাৎ করা অর্থ পুনরুদ্ধারের পথেই এগোবে সরকার।


