ইউপিআই ব্যবহারে ব্যবসায়িক লেনদেনের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম চালু করতে চলেছে কেন্দ্র। ১৫ অক্টোবর থেকে ২,০০০ টাকার বেশি মূল্যের নির্দিষ্ট ইউপিআই লেনদেনে মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট বা এমডিআর দিতে হবে ব্যবসায়ীদের। শুধু তাই নয়, ওই মাশুলের উপর ১৮ শতাংশ হারে পণ্য ও পরিষেবা কর বা জিএসটি বসবে বলেও সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে।
তবে সব ব্যবসায়ীর ক্ষেত্রে এই নিয়ম এক নয়। ছোট ব্যবসায়ীদের কিছুটা স্বস্তি দিতে বিশেষ ছাড় রাখা হয়েছে। কিউআর কোডের মাধ্যমে মাসে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত লেনদেন করা ছোট ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কোনও এমডিআর নেওয়া হবে না। অন্যদিকে, রেল এবং জ্বালানির মতো নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ২,০০০ টাকার বেশি ইউপিআই লেনদেনে পাঁচ টাকা করে মাশুল ধার্য হবে।
অন্যান্য বড় অঙ্কের লেনদেনে এমডিআরের হার ০.৪ শতাংশ হতে পারে। ৭৫,০০০ টাকা বা তার বেশি মূল্যের লেনদেনে প্রতি বার সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা পর্যন্ত এই মাশুল নেওয়ার সীমা রাখা হয়েছে। কেন্দ্রের বক্তব্য, এই খরচ সরাসরি সাধারণ ক্রেতার উপর চাপানো হবে না। মূলত বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলির কাছ থেকেই এই অর্থ নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তবে নতুন নিয়ম নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে। বিরোধীদের অভিযোগ, ব্যবসায়ীদের উপর অতিরিক্ত খরচ তৈরি হলে শেষ পর্যন্ত তার প্রভাব ক্রেতাদের উপর পড়তে পারে। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীও এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, বিদেশি চাপের কারণে কেন্দ্র এই পদক্ষেপ করেছে। সরকার অবশ্য এই দাবি খারিজ করেছে।
এদিকে এমডিআরের উপর ১৮ শতাংশ জিএসটি বসার বিষয়টি সামনে আসায় ব্যবসায়ীদের খরচ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকারি ব্যাখ্যা অনুযায়ী, প্রথমে ব্যবসায়ীকে জিএসটি-সহ মাশুল দিতে হলেও পরে ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিটের মাধ্যমে সেই করের টাকা সমন্বয় করার সুযোগ থাকবে।
ধরা যাক, কোনও ক্রেতা ১০ হাজার টাকার পণ্য কিনলেন। ০.৪ শতাংশ এমডিআর অনুযায়ী ব্যবসায়ীর মাশুল হবে ৪০ টাকা। এর উপর ১৮ শতাংশ জিএসটি যোগ হলে আরও ৭ টাকা ২০ পয়সা দিতে হবে। অর্থাৎ প্রাথমিকভাবে মোট অতিরিক্ত খরচ দাঁড়াবে ৪৭ টাকা ২০ পয়সা। তবে জিএসটির অংশটি পরে কর ব্যবস্থার মাধ্যমে সমন্বয় করা যেতে পারে।
রেল, বিমা এবং কয়েকটি নির্দিষ্ট পরিষেবাতেও একই ভাবে মাশুলের সঙ্গে জিএসটি যুক্ত হবে। সরকারের দাবি, নতুন ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর কোনও সমস্যা দেখা দিলে তা সমাধানের ব্যবস্থা থাকবে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীরা যাতে এই খরচের অজুহাতে গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা না নেন, সেদিকেও নজর রাখা হবে।
ইউপিআইয়ের ব্যবহার কমে নগদ লেনদেন বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা থাকলেও কেন্দ্র তা মনে করছে না। সরকারি আধিকারিকদের আশা, নতুন নিয়ম কার্যকর হলেও ডিজিটাল লেনদেনের প্রবণতায় বড় পরিবর্তন হবে না। পাশাপাশি, এমডিআর-মুক্ত রুপে ডেবিট কার্ড ব্যবহারে মানুষকে আরও উৎসাহিত করার কথাও জানিয়েছে সরকার।


