Saturday, November 7, 2026
29 C
Kolkata

চার হাজার ছাত্রহীন স্কুল, সম্পত্তি বেসরকারিকরণ করে দেওয়ার ভাবনা রাজ্য সরকারের

পশ্চিমবঙ্গে ছাত্রছাত্রী নেই, এমন সরকারি স্কুলের সংখ্যা চার হাজারেরও বেশি। এবার এই স্কুলগুলির ভবন, জমি এবং অন্যান্য পরিকাঠামো কীভাবে ব্যবহার করা যায়, তা খতিয়ে দেখছে রাজ্য সরকার। জেলা প্রশাসনকে স্কুলগুলির বর্তমান অবস্থা যাচাই করে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে কিছু সম্পত্তি বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে ব্যবহারের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হতে পারে।

কেন্দ্রীয় সরকারের UDISE+ ২০২৫-২৬-এর তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে ৪,১৩৩টি স্কুলে কোনও ছাত্রের নাম নথিভুক্ত নেই। অথচ এই স্কুলগুলির সঙ্গে ১৯,৫০২ জন শিক্ষকের নাম যুক্ত রয়েছে। সারা দেশে ছাত্রশূন্য স্কুলের সংখ্যা ৫,৬৬৩। অর্থাৎ দেশের মোট এমন স্কুলের প্রায় ৭৩ শতাংশই পশ্চিমবঙ্গে রয়েছে।

এই পরিসংখ্যান প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই স্কুলগুলির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজ্য প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী, প্রতিটি জেলায় জেলাশাসকের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি কমিটি তৈরি করা হবে। জেলা শিক্ষা দপ্তরের সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী অন্য সরকারি আধিকারিকদেরও ওই কমিটিতে রাখা যেতে পারে।

কমিটির সদস্যদের প্রথমে ছাত্রহীন স্কুলগুলিতে গিয়ে সরেজমিনে পরিস্থিতি দেখতে হবে। স্কুলের ভবন কতটা ভালো অবস্থায় রয়েছে, কতটা জমি রয়েছে, কী ধরনের পরিকাঠামো আছে এবং সেগুলির বর্তমান মূল্য কত—এসব তথ্য সংগ্রহ করা হবে। পরে সেই তথ্যের ভিত্তিতে স্কুলগুলির সম্পূর্ণ সম্পত্তির হিসাব তৈরি হবে।

সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, শুধু সম্পত্তি বিক্রির বিষয় নয়, এলাকার প্রয়োজন অনুযায়ী এগুলিকে অন্য কাজেও ব্যবহার করার সম্ভাবনা দেখা হচ্ছে। প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, স্বাস্থ্য পরিষেবা বা প্রাণিসম্পদ সংক্রান্ত সরকারি প্রকল্পের জন্য পরিত্যক্ত স্কুল ভবন ও জমি কাজে লাগানো যেতে পারে। কোনও ক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব বা PPP মডেলও বিবেচনায় আসতে পারে।

তবে কোনও স্কুলকে আবার চালু করার সুযোগ রয়েছে কি না, সেটিও কমিটিকে জানাতে বলা হবে। অর্থাৎ কোথাও ভবন ও পরিকাঠামো ব্যবহারযোগ্য থাকলে তার সম্ভাবনাও রিপোর্টে উল্লেখ করতে হবে।

অন্যদিকে, ছাত্রশূন্য স্কুলের এই সংখ্যার পাশাপাশি রাজ্যে শিক্ষক বণ্টনের ক্ষেত্রেও বড় অসামঞ্জস্যের ছবি উঠে এসেছে। UDISE+ তথ্য অনুযায়ী, ৬,৭৬৯টি স্কুলে মাত্র একজন করে শিক্ষক রয়েছেন, অথচ সেখানে মোট ২ লক্ষ ২৯ হাজারের বেশি ছাত্রছাত্রী পড়াশোনা করছে।

জেলা প্রশাসনকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সব জেলার রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর স্কুলগুলির ভবিষ্যৎ নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে রাজ্য সরকার। ফলে ছাত্রহীন এই বিপুল সংখ্যক স্কুলের ভবন ও জমি আগামী দিনে কীভাবে ব্যবহার করা হবে, এখন সেটাই মূল প্রশ্ন।

Hot this week

মুম্বইয়ের জনসংখ্যার চরিত্র বদলাচ্ছে, মুসলিমদের জন্মহার বাড়ছে’, বিতর্কিত দাবি বিজেপি নেতা কিরীট সোমাইয়ারের

মুম্বইয়ের জনসংখ্যার চরিত্র বদলে যাচ্ছে। মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে জন্মহার...

বাদ পড়া ভোটারদের নাম তালিকাভূক্ত করতে অবশেষে ৭ রাজ্যে বিজ্ঞপ্তি জারি ইলেকশন কমিশনের

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় খসড়া...

E20 পেট্রলে ৩১% এর বেশি ইথানল, কেন্দ্রের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণের দাবি কর্ণাটক সরকারের

পেট্রলে ২০ শতাংশ ইথানল মেশানোর সিদ্ধান্ত ঘিরে নতুন করে...

Topics

মুম্বইয়ের জনসংখ্যার চরিত্র বদলাচ্ছে, মুসলিমদের জন্মহার বাড়ছে’, বিতর্কিত দাবি বিজেপি নেতা কিরীট সোমাইয়ারের

মুম্বইয়ের জনসংখ্যার চরিত্র বদলে যাচ্ছে। মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে জন্মহার...

বাদ পড়া ভোটারদের নাম তালিকাভূক্ত করতে অবশেষে ৭ রাজ্যে বিজ্ঞপ্তি জারি ইলেকশন কমিশনের

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় খসড়া...

E20 পেট্রলে ৩১% এর বেশি ইথানল, কেন্দ্রের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণের দাবি কর্ণাটক সরকারের

পেট্রলে ২০ শতাংশ ইথানল মেশানোর সিদ্ধান্ত ঘিরে নতুন করে...

Related Articles

Popular Categories