শারদোৎসবে সিপিএমের বুকস্টল ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে কম বিতর্ক হয়নি। স্টলে ‘দুর্গাপুজো’ লেখার নির্দেশিকা নিয়ে বিতর্ক থেকে শুরু করে বিভিন্ন জায়গায় বামেদের বুকস্টলে ভাঙচুরের অভিযোগ—সবকিছুর মধ্যেই বই বিক্রিতে সাফল্যের দাবি করেছিল সিপিএম। এবার সেই অভিজ্ঞতাকে হাতিয়ার করেই বড়দিনে জনসংযোগের পরিসর বাড়াতে চাইছে আলিমুদ্দিন স্ট্রিট। সূত্রের খবর, এই পরিকল্পনা নিয়ে সম্প্রতি দলের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের সঙ্গে বৈঠক করেছেন খ্রিস্টান ধর্মীয় প্রতিনিধিরা।
বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে বুকস্টল সাজিয়ে জনসংযোগের চেষ্টা দীর্ঘদিন ধরেই করে আসছে সিপিএম। দুর্গাপুজোর সময় এই উদ্যোগের ব্যাপ্তি সবচেয়ে বেশি হলেও ইদ ও বড়দিনেও সীমিত পরিসরে বুকস্টল বসান বাম কর্মীরা। তবে এবারের দুর্গাপুজোয় বুকস্টল ঘিরে বিতর্ক এবং ভাঙচুরের অভিযোগের পর বড়দিনের কর্মসূচিকে আরও গুরুত্ব দিতে চাইছে দল।
সিপিএম সূত্রে খবর, বৈঠকে মহম্মদ সেলিম বড়দিনে চার্চ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষের জমায়েত হয় এমন এলাকাগুলিতে জনসংযোগ বাড়ানোর উপর জোর দিয়েছেন। সূত্রের দাবি, সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সংখ্যালঘু খ্রিস্টানদের পাশে থাকার বার্তাও দিয়েছেন তিনি। কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হলে যাতে দলের কর্মীরা মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারেন, সেই প্রস্তুতি রাখার কথাও আলোচনায় উঠে এসেছে বলে খবর। যদিও সম্ভাব্য অশান্তি নিয়ে কোনও নির্দিষ্ট ঘটনার তথ্য সামনে আসেনি।
কলকাতার পার্কস্ট্রিট ও বো ব্যারাকের পাশাপাশি ব্যান্ডেল, কৃষ্ণনগর, রানাঘাটের মতো এলাকাতেও বাড়তি গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে সূত্রের দাবি। এই এলাকাগুলিতে বড়দিনের উৎসবকে কেন্দ্র করে ব্যাপক জনসমাগম হয়। সিপিএমের অন্দরের হিসাব অনুযায়ী, কলকাতায় বড়দিনের সময় সাধারণত পাঁচ থেকে ছ’টি বুকস্টল বসে। এবার সেই উদ্যোগ আরও বিস্তৃত করার ভাবনা রয়েছে। ইদের সময় রাজাবাজার, পার্ক সার্কাস ও খিদিরপুরের মতো এলাকাতেও বুকস্টলের মাধ্যমে জনসংযোগ করে বামেরা।
এবারের দুর্গাপুজোয় বই বিক্রির সাফল্যও দলের কর্মীদের উৎসাহ বাড়িয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। মার্কসীয় সাহিত্য ও বামপন্থী রাজনৈতিক বইয়ের পাশাপাশি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মতো ব্যক্তিত্বদের লেখা ও তাঁদের নিয়ে প্রকাশিত বইও বিক্রি হয়েছে বলে দাবি। বিভিন্ন জায়গায় বুকস্টল ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠার পরেও কর্মীরা ভাঙা স্টলে বই সাজিয়ে বিক্রি চালিয়ে গিয়েছেন বলে দলীয় সূত্রের বক্তব্য।
তবে বড়দিনে বুকস্টল বসানোর লক্ষ্য শুধু বই বিক্রি বা আর্থিক লাভ নয় বলেই দাবি বাম শিবিরের। উৎসবকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো, স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশে থাকার বার্তা দেওয়া এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করাই এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। সেই লক্ষ্যেই কলকাতার পাশাপাশি জেলাগুলিতেও বুকস্টলের পরিসর বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর নিজেদের সাংগঠনিক উপস্থিতি আরও দৃশ্যমান করতে চাইছে সিপিএম। ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবকে কেন্দ্র করে জনসংযোগের এই কৌশল সেই প্রচেষ্টারই অংশ হতে পারে। তবে বড়দিনে এই পরিকল্পনা কতটা বাস্তবায়িত হয় এবং তা বামেদের জনসংযোগে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেদিকেই নজর।


