এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে উত্তপ্ত পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোট। শনিবার সকালে মঙ্গলকোট থানার ঝিলু-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের ঠ্যাঙাপাড়া গ্রামে বচসা থেকে হাতাহাতি, পরে তা সংঘর্ষের চেহারা নেয় বলে অভিযোগ। ঘটনায় অন্তত ছ’জন জখম হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে চার জনের আঘাত গুরুতর। আহতদের বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। নতুন করে অশান্তি এড়াতে এলাকায় টহলদারি শুরু করেছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে খবর, ঠ্যাঙাপাড়া গ্রামে লিটন শেখ ও হাবলু শেখের গোষ্ঠীর সঙ্গে মোজাম খানের গোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের বিবাদ রয়েছে। শনিবার সকালে গ্রামের মোড়ে একটি কালভার্টের উপর মোজাম-সহ কয়েক জন বসেছিলেন। সেই সময় বাইকে করে ওই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন লিটন ও হাবলুরা। অভিযোগ, তখনই মোজামদের হুমকি দিয়ে চলে যান তাঁরা।
এরপর ওই রাস্তা দিয়েই ফেরার সময় মোজামের গোষ্ঠীর লোকজন লিটনদের আটকান বলে অভিযোগ। তা থেকেই বচসার সূত্রপাত। কিছুক্ষণের মধ্যেই দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, লিটন, হাবলু ও বচন শেখ-সহ কয়েক জন অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালান। সংঘর্ষের খবর ছড়িয়ে পড়তেই দুই পক্ষের পরিবারের মহিলারাও বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন। ফলে গোটা এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পাশাপাশি আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এলাকায় যাতে নতুন করে কোনও অশান্তি না ছড়ায়, সে জন্য নজরদারি চালানো হচ্ছে।
এই সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতির যোগ নিয়েও শুরু হয়েছে আলোচনা। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, বিবদমান দুই গোষ্ঠীর সঙ্গেই রাজনৈতিক মহলের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। সেই প্রভাবকে কাজে লাগিয়েই এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা চলে বলে অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, লিটন ও হাবলুরা আগে তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর তাঁরা বিজেপিতে যোগ দেন বলে অভিযোগ। অন্য দিকে, মোজাম আগে থেকেই বিজেপির সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি স্থানীয়দের।
প্রতিবেশীদের একাংশের বক্তব্য, বিজেপি করার কারণে ২০১৬ সালে মোজামকে গ্রামছাড়া হতে হয়েছিল। পরে ২০২১ সালে মুচলেকা দিয়ে তিনি গ্রামে ফেরেন বলে তাঁদের দাবি। বর্তমানে যে গোষ্ঠীর সঙ্গে তাঁর বিরোধ, তারা বিজেপির ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত—এমন দাবিও করেছেন স্থানীয়দের একাংশ। এই রাজনৈতিক সমীকরণ থেকেই নতুন করে বিবাদের সূত্রপাত কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। যদিও সংঘর্ষের সঙ্গে রাজনৈতিক যোগের বিষয়টি এখনও পুলিশের তরফে নিশ্চিত করা হয়নি।
এদিকে, ঘটনার পর মুখ খুলেছেন বিজেপির মঙ্গলকোট ৩ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি মন্দিরা চট্টরাজ। তাঁর দাবি, ঠ্যাঙাপাড়ায় যাঁরা সংঘর্ষে জড়িয়েছেন, তাঁরা আগে বিজেপির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। ভোটের ফল ঘোষণার পর তাঁরা বিজেপির পরিচয় নিতে শুরু করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। মন্দিরা বলেন, “যাঁরা ঝামেলা করছেন, তাঁদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে পুলিশ ব্যবস্থা নেবে। আইন আইনের পথে চলবে।”
শনিবারের সংঘর্ষের পর ঠ্যাঙাপাড়ায় আপাতত পুলিশি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ঘটনায় কাউকে আটক বা গ্রেফতারের খবর মেলেনি। সংঘর্ষের নেপথ্যে ঠিক কী কারণ রয়েছে এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা তদন্তের পরেই স্পষ্ট হবে।


