সরকারি জমি দখলমুক্ত করার যুক্তিতে বুলডোজার চালিয়ে উচ্ছেদ করা হয়েছিল প্রায় ৩৫০ জন দোকানদারকে। কিন্তু সেই জমিতেই এবার তৈরি হয়েছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (আরএসএস) ‘সেবা সঙ্কল্প সহায়তা কেন্দ্র’। এই ঘটনাকে ঘিরে পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটাল শহরে শুরু হয়েছে বিতর্ক। উচ্ছেদ হওয়া ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, গরিব মানুষের দোকান সরিয়ে দেওয়ার পর একই জমিতে রাজনৈতিক সংগঠনের দপ্তর তৈরির সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, সরকারি জমির নিয়ম কি সবার জন্য সমান?
ঘাটাল শহরের প্রগতি মার্কেট দীর্ঘদিন ধরে এলাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাজার হিসেবে পরিচিত। সবজি, মাছ ও মাংসের পাইকারি এবং খুচরো ব্যবসার জন্য এই বাজারের উপর নির্ভর করতেন বহু মানুষ। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলত কেনাবেচা। স্থানীয়দের দাবি, শহরের ১২টিরও বেশি ওয়ার্ডের বাসিন্দারা এই বাজার থেকে কেনাকাটা করতেন। পাশাপাশি কয়েকশো পরিবারের রুজিরুটিও জড়িয়ে ছিল এই বাজারের সঙ্গে।
অভিযোগ, গত মে মাসে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর সরকারি জমি দখলের কথা বলে বাজারের দোকানগুলি ভেঙে দেওয়া হয়। প্রশাসনের এই পদক্ষেপে বহু ছোট ব্যবসায়ী কর্মহীন হয়ে পড়েন। কিন্তু উচ্ছেদের পর জমিটি কী কাজে ব্যবহার করা হবে, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।
দুর্গাপুজোর আগে ওই জায়গায় নির্মাণকাজ শুরু হলে বিজেপি বিধায়ক শীতল কপাট জানিয়েছিলেন, পুজোর সময় বইয়ের স্টল বসানোর জন্য অস্থায়ী ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কিন্তু ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, পুজো মিটতেই সেই কাঠামো স্থায়ী ভবনের রূপ নেয়। সেখানে চালু করা হয় ‘সেবা সঙ্কল্প সহায়তা কেন্দ্র’। তাঁদের দাবি, সেবাকেন্দ্রের নাম দেওয়া হলেও জায়গাটি বিজেপি ও হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলির দপ্তর হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
এলাকার আর একটি মাংসের দোকান সরিয়ে দেওয়ার ঘটনাও বিতর্ক বাড়িয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দোকানটি সরানোর পর সেখানে গঙ্গাজল ছড়ানো হয়েছিল। এই ঘটনাকে ঘিরেও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে ব্যবসায়ীদের একাংশের মধ্যে।
ঘাটাল হকার্স ইউনিয়নের নেতা শ্রীকৃষ্ণ শীলের দাবি, প্রায় ৩৫০ জন স্থায়ী দোকানদার উচ্ছেদের শিকার হয়েছেন। পাইকারি ও খুচরো ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত মানুষদের ধরলে ৫০০-রও বেশি পরিবারের জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, গরিব ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে সরকারি জমির নিয়মের কথা বলা হলেও অন্য ক্ষেত্রে সেই নিয়ম কীভাবে কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
উচ্ছেদ হওয়া এক দোকানদারের বক্তব্য, প্রথমে অস্থায়ী বইয়ের স্টল তৈরির কথা বলা হলেও পরে সেখানে স্থায়ী দপ্তর গড়ে তোলা হয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে মহকুমা শাসকের দপ্তরে অভিযান ও বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে হকার্স ইউনিয়ন। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের দাবি জানানো হয়েছে। দাবি পূরণ না হলে আইনি পদক্ষেপের পথেও হাঁটার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইউনিয়নের নেতারা।


