ইজরায়েলের ক্ষমতা ধরে রাখতে পারবেন প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু, নাকি তাঁকে সরিয়ে নতুন সরকার গড়বেন বিরোধী শিবিরের নেতা গাদি আইজেনকট? ভোটগণনার প্রাথমিক ছবিতে এই প্রশ্নই এখন ঘুরছে সে দেশের রাজনীতিতে। গণনায় এগিয়ে থাকলেও সরকার গড়ার জন্য প্রয়োজনীয় আসন এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি নেতানিয়াহুর জোট। ফলে শেষ পর্যন্ত কারা ক্ষমতায় আসবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আরব দলগুলির সমর্থন সরকার গঠনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
মঙ্গলবার ইজরায়েলে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। বুধবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে ভোটগণনা। প্রাথমিক ফলাফলের হিসাব অনুযায়ী, ১৯৯৯ সালের পর এ বারই সর্বোচ্চ ভোট পড়েছে বলে জানা যাচ্ছে। ভোটের ফলাফলে এখনও পর্যন্ত নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি এগিয়ে থাকলেও সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় আসন তাদের হাতে নেই। অন্য দিকে, আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটও ক্ষমতা দখলের মতো অবস্থানে পৌঁছেছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
ইজরায়েলের সংবাদমাধ্যম ‘টাইমস অফ ইজরায়েল’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৭০ শতাংশের বেশি ভোট গণনা হওয়ার পরও কোনও পক্ষের সরকার গঠনের পথ পরিষ্কার হয়নি। প্রাথমিক হিসাবে লিকুদ পার্টির ২৭ জন প্রার্থী জয় পেয়েছেন এবং আরও ২৯ জন এগিয়ে রয়েছেন। অন্য দিকে, আইজ়েনকটের ‘ইয়াশার’ জোটের ২১ জন প্রার্থী জিতেছেন এবং আরও ২৭ জন এগিয়ে রয়েছেন। ফলে শেষ ফলাফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
ইজরায়েলের সংসদ নেসেটে মোট ১২০টি আসন রয়েছে। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৬১ জন সদস্যের সমর্থন। সেখানে কোনও দল বা জোট একক ভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে অন্য দলগুলির সঙ্গে আলোচনা করে সরকার গঠন করতে হয়। এ বার সেই সমীকরণে আরব দলগুলি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, আরব জোটের প্রায় ১৮ জন সদস্য সংসদে পৌঁছতে পারেন। তাঁদের সমর্থন ছাড়া কোনও পক্ষের সরকার গঠন কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
অতীতে ইজরায়েলের রাজনীতিতে আরব দলগুলিকে অনেক সময় সরকার গঠনের আলোচনার বাইরে রাখা হয়েছে। কিন্তু এ বার ফলাফল যদি ঝুলে থাকে, তবে সেই অবস্থান বদলাতে হতে পারে। যদিও আরব দলগুলি কাকে সমর্থন করবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
ইজরায়েলের সংসদীয় ব্যবস্থায় সরকার গঠনের জন্য প্রেসিডেন্ট বিভিন্ন দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেন। যে নেতা সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থন পাওয়ার সম্ভাবনা দেখাতে পারবেন, তাঁকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হয়। সাধারণত ২৮ দিনের মধ্যে জোট তৈরি করতে হয়, প্রয়োজনে আরও ১৪ দিন সময় বাড়ানো যায়। সেই চেষ্টা ব্যর্থ হলে অন্য নেতাকে সুযোগ দেওয়া হতে পারে। শেষ পর্যন্ত কোনও সমাধান না মিললে ফের নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে।
২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ইজরায়েলে পাঁচ বার নির্বাচন হয়েছিল। জোটের টানাপোড়েনের কারণে বারবার রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা গিয়েছিল। ২০২২ সালের নির্বাচনের পর নেতানিয়াহুর জোট ৬৪টি আসন পেয়ে সরকার গঠন করেছিল। এ বার সেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখাই তাঁর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে চূড়ান্ত ফলাফল ও পরবর্তী জোট-আলোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ইজরায়েলের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কে হবেন, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।


