মুর্শিদাবাদের জলঙ্গি কেন্দ্রকে ঘিরে ভোটের আগে নতুন করে রাজনৈতিক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই দলবদলের জল্পনা চলছিল। অবশেষে সেই জল্পনারই ইতি টেনে ভোটের ঠিক সাত দিন আগে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে সরে দাঁড়ালেন প্রাক্তন বিধায়ক আব্দুর রাজ্জাক মণ্ডল। বুধবার রাতে নিজের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সামনে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন।
সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্জাক মণ্ডল স্পষ্ট করে জানান, তিনি আর তৃণমূলের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক রাখতে চান না। তাঁর বক্তব্য, দলের কিছু সিদ্ধান্ত এবং নেতৃত্বের মন্তব্যে তিনি অত্যন্ত মর্মাহত হয়েছেন। বিশেষ করে তাঁকে ঘিরে ওঠা অস্বচ্ছতার অভিযোগ তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বড় আঘাত বলেই দাবি করেন তিনি। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে রাজনীতিতে থাকার পর এই ধরনের মন্তব্য তিনি মেনে নিতে পারেননি বলে জানান।
এদিন তিনি রানিনগরের প্রার্থী সৌমিক হোসেনের বিরুদ্ধেও সরব হন। রাজ্জাকের অভিযোগ, ডোমকল মহকুমায় নিজের প্রভাব বাড়াতে পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন কেন্দ্রে প্রার্থী বাছাই করা হয়েছে। তাঁর দাবি, কিছু প্রার্থী জিতলেও এলাকায় থাকবেন না, আর সেই সুযোগে অন্য কেউ নেতৃত্ব দখল করতে চাইছেন। এমনকি ডোমকল মহকুমার তিনটি আসনেই তৃণমূলের পরাজয়ের আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
যদিও এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন সৌমিক হোসেন। তাঁর বক্তব্য, প্রার্থী নির্বাচনের সঙ্গে তাঁর কোনও ভূমিকা নেই এবং ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকেই এই ধরনের মন্তব্য করা হচ্ছে। রাজ্জাক মণ্ডল আরও জানান, লোকসভা নির্বাচনের সময় দলের ফল খারাপ হলেও কিছু নেতাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, যা নিয়ে তাঁর প্রশ্ন রয়েছে। এছাড়াও তিনি দাবি করেন, একটি বেসরকারি সংস্থা তাঁর কাছে আর্থিক সুবিধা চাইছিল, কিন্তু তিনি তাতে রাজি হননি। সেই কারণেই তাঁকে গুরুত্বহীন করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর।
স্থানীয় বনাম বহিরাগত প্রার্থী প্রসঙ্গেও ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। তাঁর মতে, এলাকার মানুষের সঙ্গে সংযোগ না থাকলে ভোটে তার প্রভাব পড়ে। অতীতেও বহিরাগত প্রার্থীরা এখানে সফল হননি বলে উল্লেখ করেন তিনি। দল ছাড়লেও আপাতত অন্য কোনও রাজনৈতিক দলে যোগ দিচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন রাজ্জাক। তিনি বলেন, এই নির্বাচনে তিনি সাধারণ ভোটার হিসেবেই অংশ নেবেন। ভবিষ্যতে নতুন কোনও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিলেও এখনই সে বিষয়ে কিছু স্পষ্ট করেননি। ভোটের মুখে এই দলত্যাগ ঘিরে জেলার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।


