উত্তর ভারতের একাধিক শিল্পাঞ্চলে পরিযায়ী শ্রমিকদের অসন্তোষ ক্রমশ তীব্র আকার নিচ্ছে। উন্নত আয়ের আশায় বহু বছর আগে নিজের গ্রাম-ঘর ছেড়ে নয়ডা, গুরুগ্রাম, ফরিদাবাদ ও গাজিয়াবাদের মতো শহরে কাজ করতে এসেছিলেন হাজার হাজার শ্রমিক। কিন্তু এখন সেই জায়গাগুলিতেই মজুরি ও কাজের পরিবেশ নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে। জানা গিয়েছে , ১২ ঘণ্টার কাজের বিনিময়ে তারা পেতো মাত্র ১৩,০০০টাকা। নয়ডায় শ্রমিকদের আন্দোলন থামার লক্ষণ নেই। সম্প্রতি মজুরি বৃদ্ধির ঘোষণা করা হলেও তা পর্যাপ্ত নয় বলেই দাবি শ্রমিকদের। তাঁদের মতে, দৈনন্দিন খরচের তুলনায় এই বৃদ্ধি খুবই সামান্য। ফলে অসন্তোষ আরও বাড়ছে।
এই আন্দোলনের প্রভাব এখন গুরুগ্রামেও স্পষ্ট। সেখানে গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন ইস্যুতে বিক্ষোভ চলছে। মানেসরে প্রতিবাদে অংশ নেওয়া ৩৫০ জন শ্রমিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মুক্তির দাবিতে শ্রমিক সংগঠনগুলি ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। একইসঙ্গে আজ তিন ঘণ্টার প্রতীকী কর্মবিরতিতে অংশ নিচ্ছেন পুরসভা ও সরকারি দপ্তরের কর্মীরাও।
গুরুগ্রামের দমকল বিভাগের কর্মীরাও আন্দোলনে শামিল হয়েছেন। সেক্টর ২৯ এলাকায় টানা সাতদিন ধরে তাঁদের অবস্থান বিক্ষোভ চলছে। তাঁদের অভিযোগ, অভিজ্ঞতা বা প্রশিক্ষণ ছাড়া কম বেতনে চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়োগ করা হচ্ছে। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে।
শ্রমিক সংগঠনগুলির দাবি, ন্যূনতম মজুরি বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। একটি কমিটি মাসিক ২৩ হাজার টাকার বেশি মজুরির সুপারিশ করলেও তা কার্যকর হয়নি। বর্তমানে অদক্ষ শ্রমিকদের জন্য নির্ধারিত মজুরি ১৫ হাজার টাকার কিছু বেশি এবং দক্ষ শ্রমিকদের জন্য প্রায় ১৮ হাজার ৫০০ টাকা। শিল্পাঞ্চলে জীবনযাত্রার খরচ বেশি হওয়ায় এই মজুরি যথেষ্ট নয় বলেই অভিযোগ।
পানিপথের শিল্পাঞ্চলেও একই চিত্র দেখা গেছে। একটি তেল শোধনাগারে প্রায় ৩০ হাজার চুক্তিভিত্তিক শ্রমিক সম্প্রতি বিক্ষোভে সামিল হয়েছেন। তাঁদের মূল দাবি, মজুরি বৃদ্ধি এবং কাজের পরিবেশের উন্নতি। অন্যদিকে, রাজ্য সরকার এই অভিযোগ মানতে নারাজ। প্রশাসনের দাবি, কিছু সংগঠিত গোষ্ঠী শ্রমিকদের উসকানি দিচ্ছে। এই অভিযোগে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তদন্ত শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্তর থেকেও বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে নয়ডা পুলিশের কড়া অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, কাজ করতে হলে কারখানায় ফিরতে হবে, না হলে ঘরে থাকতে হবে। রাস্তা অবরোধ বা বিক্ষোভ মেনে নেওয়া হবে না। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রয়োজনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে প্রশাসন।


