শ্রীনগরের কাশ্মীর হাটে আয়োজিত ‘নো ইওর আর্টিজানস’ প্রদর্শনীর উদ্বোধনে গিয়ে এক ভিন্ন ধরনের দৃশ্যের সাক্ষী থাকল উপস্থিত জনতা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আব্দুল্লাহ। একটি ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার মাধ্যমে তিনি এখন সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।উদ্বোধনের সময় রীতি অনুযায়ী ফিতে কেটে অনুষ্ঠান শুরু করার কথা ছিল মুখ্যমন্ত্রীর। কিন্তু কাঁচি হাতে এগিয়ে যেতেই তিনি লক্ষ্য করেন, ফিতেটি সাজানো হয়েছে গেরুয়া, সাদা ও সবুজ রঙে—যা ভারতের জাতীয় পতাকার আদলে তৈরি। বিষয়টি বুঝতে পেরেই তিনি থেমে যান এবং ফিতে কাটতে অস্বীকার করেন।মুখ্যমন্ত্রী শান্তভাবে সেখানে উপস্থিত কর্মকর্তাদের জানান, এমন রূপের ফিতে কাটা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ফিতেটি কাটা নয়, বরং দুই পাশ থেকে খুলে দেওয়া উচিত। তাঁর নির্দেশ মতোই পরবর্তীতে ফিতের দুই প্রান্ত খুলে দেওয়া হয় এবং কোনো ফিতে কাটা ছাড়াই প্রদর্শনীর উদ্বোধন সম্পন্ন হয়।ঘটনাস্থলে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন উপ-মুখ্যমন্ত্রী এবং প্রশাসনের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা। পুরো ঘটনাটি কয়েক মিনিটের হলেও উপস্থিত দর্শকদের নজর কাড়ে। এই ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই দ্রুত তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। অনেকেই মুখ্যমন্ত্রীর সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক ভাবে দেখেছেন। নেটিজেনদের একাংশের মতে, জাতীয় প্রতীকের প্রতি এই ধরনের সংবেদনশীলতা প্রশংসার যোগ্য। কেউ কেউ লিখেছেন, প্রতীকীভাবে হলেও জাতীয় পতাকার মর্যাদা রক্ষা করাই বড় বিষয়।তবে একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে আয়োজকদের ভূমিকা নিয়েও। কীভাবে এমন একটি নকশার ফিতে ব্যবহার করা হলো, তা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে বিভিন্ন মহলে। অনেকের মতে, অনুষ্ঠানের প্রস্তুতিতে আরও সতর্কতা প্রয়োজন ছিল, যাতে এমন পরিস্থিতি তৈরি না হয়।রাজনৈতিক মহলেও এই ঘটনার প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ওমর আব্দুল্লাহর দল ন্যাশনাল কনফারেন্স এই ঘটনাকে দায়িত্বশীল আচরণের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছে। অন্যদিকে কংগ্রেসের একাধিক নেতা তাঁর সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেছেন। শ্রীনগরের এই ছোট ঘটনা এখন বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। একদিকে জাতীয় প্রতীকের প্রতি সম্মান, অন্যদিকে প্রশাসনিক গাফিলতির প্রশ্ন—দুই দিকই সামনে এসেছে এই ঘটনার মাধ্যমে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের পরিস্থিতিতে দ্রুত ও সংবেদনশীল সিদ্ধান্তই জনমত গঠনে বড় ভূমিকা নেয়।
Popular Categories


