গুজরাটের আহমেদাবাদে পুলিশ হেফাজতে এক মুসলিম বৃদ্ধের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতের নাম জাহির শেখ। বয়স প্রায় ৭০ বছর। পরিবারের অভিযোগ, পুলিশের মারধর ও নির্যাতনের জেরেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাকে ঘিরে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। হাসপাতালের বাইরেও বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় মানুষজন ও পরিবারের সদস্যরা।
জানা গিয়েছে, গত ১৬ মে জাহির শেখকে একটি প্রতিরোধমূলক আটক মামলায় গ্রেফতার করা হয়। পরে তাঁর বিরুদ্ধে গরু জবাই এবং নিষিদ্ধ মাংস রাখার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশি জেরার সময় তাঁকে শারীরিকভাবে হেনস্থা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের। তাঁদের দাবি, জাহির শেখকে মারধর করা হয়, গালিগালাজ করা হয় এবং তাঁর দাড়ি টেনে অপমান করা হয়। এমনকি তাঁকে একটি সন্দেহজনক পানীয় খেতেও বাধ্য করা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। এরপরই তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে শুরু করে।
পরিবারের দাবি, মৃত্যুর আগে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জাহির শেখ একটি বয়ান রেকর্ড করেছিলেন। সেখানে তিনি কয়েকজন পুলিশকর্মীর নাম উল্লেখ করে তাঁর উপর অত্যাচারের অভিযোগ জানান। মৃতের ছেলে তৌফিক শেখ আহমেদাবাদের পুলিশ কমিশনার জি এস মালিকের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
জাহির শেখের আইনজীবী নওমান ঘাঞ্চিও অভিযোগ করেছেন, বৃদ্ধ বয়স এবং শারীরিক অসুস্থতা থাকা সত্ত্বেও তাঁকে নির্যাতন করা হয়েছে। তাঁর কথায়, একজন অসুস্থ মানুষকে এভাবে জেরা করা মানবাধিকারের পরিপন্থী।
এই ঘটনার সূত্রপাত ৫ মে ভেজালপুর এলাকায় পুলিশের একটি অভিযানের পর। সোনাল সিনেমা রোডের কাছে ওই অভিযানে প্রায় ৫২০ কেজি সন্দেহভাজন গরুর মাংস উদ্ধার হয়। পাশাপাশি উদ্ধার করা হয় একটি জীবিত বাছুর, পশু জবাইয়ের সরঞ্জাম, গাড়ি এবং ওজন মাপার যন্ত্র। পুলিশ জানায়, ওই ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হলেও কিছু অভিযুক্ত পালিয়ে যায়। অভিযোগ, জাহির শেখও তখন এলাকা ছেড়ে পালিয়েছিলেন।
এদিকে পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে আহমেদাবাদ পুলিশ। পুলিশের দাবি, জাহির শেখ আগে থেকেই ডায়াবেটিস-সহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, স্ত্রীর দেওয়া ওষুধ খাওয়ার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। এরপর দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং আইসিইউতে রাখা হয়েছিল। তবে এই মৃত্যুর ঘটনায় ফের প্রশ্ন উঠেছে পুলিশি আচরণ এবং হেফাজতে থাকা ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিয়ে।


