এলাহাবাদ হাইকোর্টের এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে উত্তরপ্রদেশে বন্ধ করে দেওয়া একটি মাদ্রাসা ফের খুলে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশে রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তে বড় ধাক্কা লাগল বলে মনে করছেন অনেকেই। যোগী আদিত্যনাথের সরকার অভিযোগ তোলে যে, ওই মাদ্রাসাটি সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত নয়। সেই কারণ দেখিয়েই মাদ্রাসায় তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।
শ্রীবস্তি জেলার ‘মাদ্রাসা আহলে সুন্নত ইমাম আহমদ রাজা’ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ শেষমেষ আদালতের দ্বারস্থ হয়। মামলার শুনানিতে হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, দেশের প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণের অধিকার রয়েছে। সংবিধান নাগরিকদের নিজস্ব ধর্ম, ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষা করার অধিকার দিয়েছে। সেই অধিকার অনুযায়ী সংখ্যালঘু সম্প্রদায় নিজেদের উদ্যোগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরি ও পরিচালনা করতে পারে।আদালত জানায়, সরকার চাইলে অনুমোদিত মাদ্রাসাকে অনুদান বা সুযোগ দিতে পারে। কিন্তু যারা সরকারি অনুমোদন বা অনুদান চায় না, তাদের ধর্মীয় শিক্ষা নেওয়ার অধিকার কেড়ে নেওয়া যায় না। এই মামলায় আবেদনকারী মাদ্রাসা কোনও সরকারি সাহায্য দাবি করেনি। তারা নিজেদের অর্থ ও উদ্যোগেই মাদ্রাসা চালাতে চায়। তাই সেখানে সরকারের হস্তক্ষেপের অধিকার নেই।
সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, এই ধরনের মাদ্রাসার পড়ুয়ারা ভবিষ্যতে সমস্যায় পড়তে পারে। তবে হাইকোর্ট জানিয়ে দেয়, সংবিধানের ৩০(১) ধারা অনুযায়ী সংখ্যালঘুদের এই অধিকার সুরক্ষিত। কোনও সরকার সেই মৌলিক অধিকারে হস্তক্ষেপ করতে পারে না। এই রায় বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলিতে থাকা বহু মাদ্রাসার জন্য আশার আলো দেখাল। বিচারপতি সুভাষ বিদ্যার্থীর বেঞ্চের এই রায়ে এলাহাবাদ হাইকোর্টের উপর মানুষের আস্থা আরও দৃঢ় হল।


