উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় নির্বাচনী প্রচারে এসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের মন্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়েছে। বুধবার কোচবিহারের তুফানগঞ্জ, জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জ এবং আলিপুরদুয়ারের ফালাকাটায় একাধিক সভা করেন তিনি। প্রতিটি সভাতেই তাঁর বক্তব্যকে ঘিরে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক।
তুফানগঞ্জের সভা থেকে অমিত শাহ এমন এক মন্তব্য করেন, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় যাদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁদের বিষয়ে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এমনকি তাঁদের দেশ ছাড়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। এই মন্তব্য সামনে আসতেই বিরোধীরা সরব হয়ে ওঠে।
যেসব মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে, তাঁদের অনেকেই ইতিমধ্যে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছেন। সেই প্রক্রিয়া এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। ফলে কাউকে অনুপ্রবেশকারী বলা বা তার ভিত্তিতে কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেওয়া ঠিক নয় বলেই মনে করছেন বিরোধীরা। তাদের বক্তব্য, আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই এ ধরনের মন্তব্য মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করতে পারে।
এদিকে শাহ তাঁর বক্তব্যে আরও বলেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠিত হলে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইসঙ্গে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, কাঁটাতারের বেড়া দ্রুত সম্পূর্ণ করা এবং নতুন করে বাহিনী গঠনের প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। রাজবংশী ভাষাকে স্বীকৃতি দেওয়ার কথাও তুলে ধরেন তাঁর বক্তৃতায়।
জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জের সভাতেও তিনি একই সুরে কথা বলেন। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যে দুর্নীতি ও সিন্ডিকেট রাজে সাধারণ মানুষ ভুগছেন। বিজেপি ক্ষমতায় এলে এই পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। অন্যদিকে আলিপুরদুয়ারের ফালাকাটার সভায় শাহ আরও কড়া ভাষা ব্যবহার করেন। তিনি বলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিরোধীরা অভিযোগ তুলেছে, তিনি পরোক্ষে রাজনৈতিক কর্মীদের হুমকি দিচ্ছেন।
শাহর বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেক সাধারণ মানুষও, বিশেষ করে যাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে। তাঁদের মতে, এখনও বিষয়টি আইনি পর্যায়ে রয়েছে, তাই আগে সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত এমন মন্তব্য করা উচিত নয়।
অনেকেই অভিযোগ করছেন, একজন দায়িত্বশীল পদে থেকে এই ধরনের ভাষা ব্যবহার করা ঠিক নয় এবং এই ধরনের মন্তব্য রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করে তুলছে। উত্তরবঙ্গে নির্বাচনী প্রচার ঘিরে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। ভোটের আগে এই ধরনের বক্তব্য ও পাল্টা প্রতিক্রিয়া রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করছে।


