নদীয়া জেলায় নাগরিকত্ব নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সরকারি সূত্রে জানা যাচ্ছে, এই জেলায় নাগরিকত্বের জন্য আবেদনকারীর সংখ্যা ইতিমধ্যে ৮৩ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে প্রায় ৪০ হাজার মানুষের আবেদন যাচাই বা শুনানির কাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, গত আট মাসে খুব অল্প সংখ্যক মানুষ নাগরিকত্বের সনদ হাতে পেয়েছেন। সংখ্যাটা প্রায় ৭ হাজারের মতো, যা মোট আবেদনকারীর তুলনায় খুবই কম।
এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। আসন্ন নির্বাচনের আগে নাগরিকত্ব দেওয়া নিয়ে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, আবেদন করলেই সহজে ভোটার তালিকায় নাম উঠে যাবে, এই ধারণা এখন আর বাস্তবসম্মত মনে হচ্ছে না।
অন্যদিকে, সিপিএম অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে যে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে নাগরিকত্বের আবেদন করানো হয়েছে। তাদের দাবি, এর ফলে বহু মানুষ উল্টে সমস্যায় পড়ছেন। জেলার বিভিন্ন এলাকায় আগে নাগরিকত্বের আবেদন নেওয়ার জন্য শিবির করা হয়েছিল। সেই সময় বহু মানুষকে আবেদন করতে উৎসাহিত করা হয়। এমনকি আবেদন করার সময় কিছু ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের নিজেদের ভিন্ন দেশের বাসিন্দা বলে উল্লেখ করতে হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এর জন্য পুরনো নথি জমা দেওয়ার প্রয়োজন পড়েছে, যা অনেকের পক্ষেই জোগাড় করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নদীয়া জেলা দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বাস্তু সমস্যার সঙ্গে যুক্ত। দেশভাগের পর বহু মানুষ প্রতিবেশী দেশ থেকে এসে এখানে বসবাস শুরু করেন। ফলে অনেকেরই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পূর্ণ নয়। এই কারণেই ভোটার তালিকা তৈরির সময়ও বহু মানুষ সমস্যায় পড়েছেন। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, জেলায় কয়েক লক্ষ ভোটারকে সন্দেহভাজন বা যাচাইয়ের আওতায় রাখা হয়েছে। পরে প্রকাশিত তালিকায় আবার বহু মানুষের নাম বাদ পড়েছে, যার মধ্যে বড় অংশ মুসলিম।


