পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী মুখ হিসেবে যাঁর নাম একসময় চর্চার কেন্দ্রবিন্দু হয়েছিল, সেই স্বপন দাশগুপ্তের ছেলের বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অভিযোগ স্বপন দাশগুপ্তের ছেলে সৌম্য সৃজন দাশগুপ্তর বিরুদ্ধে, যিনি বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবী হিসেবে কাজ করছেন। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মহিলা শ্লীলতাহানি ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছিলেন। বিষয়টি প্রথম প্রকাশ্যে আসে ২০২০ সালে, যখন দিল্লির সেন্ট স্টিফেনস কলেজের এক প্রাক্তনী সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন।
ওই তরুণীর দাবি, কলেজে পড়ার সময় প্রথম বর্ষেই তিনি হেনস্থার শিকার হন। পরে সমাজমাধ্যমে বিষয়টি জানালে আরও কয়েকজন মহিলা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানান। অভিযোগকারীর কথায়, তিনি একা নন, অন্তত পাঁচজন একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন।
এরপর আরও দুই মহিলা সামনে এসে অভিযোগ করেন। তাঁদের একজন জানান, ২০১৭ সালে তাঁকে জোর করে শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করা হয়েছিল। আরেকজনের দাবি, এক বন্ধুর বাড়িতে ঘুমন্ত অবস্থায় তাঁর সঙ্গে অশালীন আচরণ করা হয়। যদিও অভিযোগ সংক্রান্ত একটি পোস্ট পরে সোশ্যাল মিডিয়ার একটি গ্রুপ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়।
এই অভিযোগগুলি #MeToo আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত কিছু প্ল্যাটফর্মেও ছড়িয়ে পড়ে, ফলে বিষয়টি আরও গুরুত্ব পায়। তবে এখনও পর্যন্ত সৌম্য সৃজন দাশগুপ্ত এই বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি। জানা গিয়েছে, তিনি ২০০৯ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে সেন্ট স্টিফেনস কলেজে ইতিহাস নিয়ে পড়াশোনা করেন। বর্তমানে তিনি সুপ্রিম কোর্টে প্র্যাকটিস করছেন।
এদিকে রাজনৈতিক মহলেও এই ঘটনা ঘিরে চাপ বাড়ছে। কারণ, তাঁর বাবা স্বপন দাশগুপ্ত বিজেপির একজন পরিচিত মুখ এবং শোনা যাচ্ছে, তিনি আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে রাশবিহারী কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হয়েছেন। সেই প্রেক্ষাপটে তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগ নিয়ে বিরোধীরা সরব হয়েছে। ২০২০ সালের এই বিতর্ক ফের সামনে আসায় রাজনৈতিক ও সামাজিক স্তরে নানা প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে, ক্ষমতার কাছাকাছি থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তা কতটা গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে, সেই প্রশ্নও সামনে আসছে।


