দেশের অন্যতম বড় শিল্পগোষ্ঠীকে ঘিরে ঋণ সংক্রান্ত একটি মামলায় গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করল সুপ্রিম কোর্ট। শিল্পপতি অনিল আম্বানির সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে শুনানির সময় আদালত জানায় মামলাটির কিছু দিক অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
মামলার শুনানিতে উঠে আসে, কয়েক হাজার কোটি টাকার ঋণ সংক্রান্ত বিতর্ক খুব কম অঙ্কে নিষ্পত্তি করা হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট-এর একটি রিপোর্টের ভিত্তিতেই এই তথ্য আদালতের সামনে আসে। বিচারপতিদের মতে, এই ধরনের নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া স্বাভাবিক কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
এই মামলাটি মূলত অনিল ধীরুভাই আম্বানি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিপুল অঙ্কের আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে দায়ের হয়েছিল। শুনানির সময় আদালত লক্ষ্য করে, তদন্তের অগ্রগতি আশানুরূপ নয়। সেই কারণে সেন্ট্রাল বিওরো অফ ইনভেস্টিগেশন এবং ইডি—দুই সংস্থার ভূমিকাই প্রশ্নের মুখে পড়ে।
আদালতের বেঞ্চে থাকা বিচারপতিরা স্পষ্টভাবে জানান, তদন্তে কোনও ধরনের গাফিলতি বা দেরি মেনে নেওয়া হবে না। তাঁরা নির্দেশ দেন, দ্রুততার সঙ্গে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত সম্পন্ন করতে হবে। একই সঙ্গে, তদন্তের প্রতিটি ধাপ যেন পক্ষপাতহীনভাবে পরিচালিত হয়, তাও নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
শুনানিতে আবেদনকারীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ঋণ মেটানোর যে পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছে, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। অভিযোগ, খুব কম টাকায় বিপুল পরিমাণ বকেয়া মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা সাধারণ নিয়মের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। যদিও এই বিষয়ে আদালত সরাসরি কোনও মন্তব্য করেনি, তবে রিপোর্টে উল্লিখিত তথ্য দেখে বিচারপতিরা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
এদিকে, তদন্তে দেরি হওয়া এবং এখনও পর্যন্ত বড় কোনও পদক্ষেপ না নেওয়া নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। আবেদনকারীর আইনজীবী জানতে চান, কেন শুধুমাত্র নিম্নস্তরের কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, অথচ উচ্চপদস্থদের বিরুদ্ধে তেমন পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।


