
আসামে গরুর মাংস নিষিদ্ধ নয়। তবে ২০২১ সালে প্রচলিত আইন অনুযায়ী, যেকোনো হিন্দু, শিক, ও জৈন এলাকায় অথবা কোন মন্দির, বৈষ্ণব মঠ, এবং হিন্দু ধর্মাবলম্বী ধাম গুলিতে বা ওই স্থানের ৫ কিলোমিটারে ব্যাসার্ধে গরু জবাই অথবা গরুর মাংস বিক্রি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
গরু জবাই এবং গরুর মাংস বিক্রির বিরুদ্ধে আসামে এত বড় অভিযান আগে কখনো হয়নি বলে মনে করছে সাধারণ মানুষ। গত মঙ্গলবার আসাম পুলিশ গবাদি পশু সংরক্ষণ আইন ২০২১ এর বিধান অনুযায়ী মোট ১৯৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। আসাম প্রশাসন শতাধিক খাবারের দোকানে তল্লাশি চালিয়ে ১০৮৪ কেজি মাংস বাজেয়াপ্ত করেছে যা গরুর মাংস বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
পিটিআই কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে, ইন্সপেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ অখিলেশ কুমার সিং জানিয়েছেন, “এই তল্লাশির মূল উদ্দেশ্য হলো গবাদি পশু সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘন বন্ধ করা।” মনে করা হচ্ছে সাম্প্রতিক কালে আসামে বেড়ে চলা সাম্প্রদায়িক প্রতিহিংসাকে দমন করার জন্য, আসাম প্রশাসনের মাধ্যমে এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। গোয়ালপাড়া এবং লখিমপুর জেলা থেকেও একই ঘটনা সামনে উঠে এসেছে।
সাধারণ মানুষের একাংশ প্রশাসনের এই উদ্যোগকে নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। তাদের দাবি, সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ কোন নির্দিষ্ট মাংসের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে বন্ধ করা সম্ভব নয়। আসাম সরকারের এই উদ্যোগ দেখে সাধারণ মানুষ এও মনে করছেন, হিন্দুত্ববাদী আগ্রাসন চরিতার্থ করার জন্য আসাম প্রশাসনের এমন উদ্যোগ।


