অসমের শ্রীভূমি জেলায় কংগ্রেস সেবা দলের এক বৈঠকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা গান ‘আমার সোনার বাংলা’ গাওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতি। বিজেপির অভিযোগ, কংগ্রেস নেতা বিধু ভূষণ দাস বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা রুজু করতে।
বুধবার বিজেপির একাধিক নেতা ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেন। অসমের স্বাস্থ্য মন্ত্রী অশোক সিঙ্ঘল লিখেছেন, “কংগ্রেস সভায় বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ উত্তর-পূর্বকে ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন করতে চায়।” বিজেপির দাবি, কংগ্রেস বৃহত্তর বাংলাদেশ তৈরির ষড়যন্ত্রে শামিল।
অন্যদিকে কংগ্রেস ও তৃণমূল নেতারা বিধু ভূষণ দাসের পাশে দাঁড়িয়েছেন। কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগৈ বলেন, “এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা গান, যা বাঙালি সংস্কৃতি ও আবেগের সঙ্গে জড়িত। বিজেপি সবসময় বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিকে অপমান করে।” তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রও মন্তব্য করেছেন, “আমার সোনার বাংলা গানটি রবীন্দ্রনাথ ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের প্রতিবাদে লিখেছিলেন। পরে এর প্রথম দশ লাইন বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে গ্রহণ করা হয়। সব বাঙালির কাছে এই গান আবেগের প্রতীক।”
ঘটনাটি ঘিরে অসমে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। একদিকে বিজেপি কংগ্রেসকে দেশবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে কাঠগড়ায় তুলছে, অন্যদিকে বিরোধীরা বলছে এটি বাঙালি সংস্কৃতির উপর আঘাত এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিকৃত ব্যাখ্যা।


