অসমের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ল। বাজালি বিধানসভা কেন্দ্রে এক নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, পুনরায় ক্ষমতায় এলে সরকারি জমি থেকে দখলদারদের সরাতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তাঁর দাবি, অতীতে যে হারে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে, আগামী দিনেও তা আরও বিস্তৃত করা হবে।তিনি জানান, গত কয়েক বছরে প্রশাসনের উদ্যোগে বিপুল পরিমাণ সরকারি জমি দখলমুক্ত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে লক্ষ্য আরও বড়, যেখানে লক্ষাধিক বিঘা জমি দখলমুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে এবং প্রয়োজনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।মুখ্যমন্ত্রী আরও দাবি করেন, রাজ্যের জমি মূলত স্থানীয় ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকারেই থাকা উচিত। অবৈধ দখল ও অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রাখার কথাও তিনি তুলে ধরেন। তাঁর মতে, রাজ্যের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ভারসাম্য রক্ষার জন্য এই ধরনের পদক্ষেপ প্রয়োজন।তবে তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, এই ধরনের উচ্ছেদ অভিযান প্রকৃতপক্ষে নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের উপর চাপ সৃষ্টি করছে এবং সমাজে বিভাজন বাড়াচ্ছে। কংগ্রেস সহ অন্যান্য বিরোধী দলের নেতারা দাবি করেছেন, বহু ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করা পরিবারগুলিকেও উচ্ছেদের মুখে পড়তে হয়েছে, যার ফলে তারা চরম সমস্যায় পড়েছেন।বিরোধীদের আরও অভিযোগ, প্রশাসনের এই উচ্ছেদ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শিল্পপতিদের সুবিধা করে দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের দাবি, বড় প্রকল্পের জন্য জমি খালি করতে গিয়ে সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি ভেঙে ফেলা হচ্ছে এবং বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছেন। এতে অনেকেই জীবিকা ও মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলেও তাঁদের অভিযোগ।অন্যদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, অবৈধ দখল রুখতে এবং উন্নয়নমূলক কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, সরকারি জমি দখলমুক্ত করা হলে তা জনস্বার্থে ব্যবহার করা সম্ভব হবে। জমি উচ্ছেদ ও তার প্রভাবকে কেন্দ্র করে অসমের রাজনীতি এখন বেশ উত্তপ্ত। নির্বাচনের আগে এই ইস্যু ভোটারদের মনেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
Popular Categories


