অসমে ফের শুরু হয়েছে উচ্ছেদ অভিযান। শীতের শুরুতেই গোয়ালপাড়া জেলার বেশ কয়েকটি গ্রামে বুলডোজার নিয়ে হাজির হয়েছে প্রশাসন। এই অভিযানে হাজারেরও বেশি বাঙালি মুসলিম পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। অনেকের মাথার উপর থেকে ছাদ সরে গেছে রাতারাতি, খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। প্রশ্ন উঠছে কেন বারবার বিজেপি শাসিত রাজ্যে নিপীড়িত হতে হচ্ছে ভারতীয় মুসলিমদের?
অসমে বিজেপি সরকার জানিয়েছে, এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে “রিজার্ভ ফরেস্ট” এলাকার জমি উদ্ধার করার জন্য। প্রশাসনের দাবি, প্রায় ৩৭৯ একর জমি দখলমুক্ত করা হয়েছে এবং দুই সপ্তাহ আগেই এলাকাবাসীকে উচ্ছেদের নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। ডেপুটি কমিশনার প্রদীপ রিমু জানিয়েছেন, প্রায় ২০০টি পরিবারের মধ্যে ৭০ শতাংশ ইতিমধ্যেই স্থান ত্যাগ করেছে, বাকিদের সরানোর কাজ চলছে শান্তিপূর্ণভাবে। নিরাপত্তার জন্য বিশাল পুলিশবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। তবে সূত্র মারফত খবর পাওয়া যাচ্ছে, প্রায় ৬০০ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যার মধ্যে অধিকাংশ বাঙালি মুসলিম।
সারা দেশ জুড়ে বিরোধীরা এই উচ্ছেদের চূড়ান্ত নিন্দা করছে। বিরোধীদের মতে ক্ষমতায় থেকে প্রকাশ্যে অগণতান্ত্রিক কার্যকলাপ চালাচ্ছে। শুধু বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি নয়, স্থানীয় মানুষ এবং মানবাধিকার কর্মীরা এই অভিযানের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, সরকারের এই উচ্ছেদ কার্যক্রম আসলে ভোটের রাজনীতি। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বিভাজনমূলক রাজনীতি চালাচ্ছেন। স্থানীয়দের মতে, যাদের অবৈধ অনুপ্রবেশকারী বলা হচ্ছে, তারা বহু প্রজন্ম ধরে এই এলাকায় বসবাস করে আসছেন।
বিগত কয়েক বছর ধরেই রাজ্যে মুসলিম বিরোধী নানা পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে , কখনও লাভ জিহাদ, কখনও বাল্যবিবাহবিরোধী অভিযান, আর এখন উচ্ছেদ অভিযান। এই ধারাবাহিক অভিযানে বহু মসজিদ ও মাদ্রাসা বুলডোজারে ভেঙে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ। অসমের এই নতুন উচ্ছেদ অভিযান আবারও রাজ্যের শান্তি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। গৃহহারা মানুষদের মুখে এখন একটাই প্রশ্ন, “আমরা কোথায় যাব?”


