অসমের কার্বি আংলং জেলার এক প্রত্যন্ত গ্রামে ফের কুসংস্কারের ভয়াবহ রূপ সামনে এল। ডাইনি সন্দেহে এক নিরীহ দম্পতিকে নির্মমভাবে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে গ্রামবাসীদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় রাজ্যজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হাওড়াঘাট থানার অন্তর্গত বেলোগুড়ি মুন্ডা গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত দম্পতির নাম গার্দি বিরোয়া (৪৩) এবং মীরা বিরোয়া (৩৩)। তাঁরা দীর্ঘদিন ধরেই ওই গ্রামে বসবাস করতেন। অভিযোগ, মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর গ্রামের একদল মানুষ তাঁদের বাড়িতে ঢুকে প্রথমে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। এরপর বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। আগুন এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, দম্পতির দেহাবশেষও পুরোপুরি উদ্ধার করা যায়নি।
প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, এলাকার কিছু মানুষ বিশ্বাস করত যে গ্রামের বিভিন্ন অসুখ-বিসুখ ও দুর্ভাগ্যের জন্য ওই দম্পতিই দায়ী। এই অন্ধ বিশ্বাস থেকেই তাঁদের বিরুদ্ধে ডাইনি চর্চার অভিযোগ তোলা হয়। পরিকল্পিতভাবেই এই হামলা চালানো হয়েছে বলে পুলিশের ধারণা। বুধবার সকালে জেলার ঊর্ধ্বতন পুলিশ আধিকারিক ও প্রশাসনের কর্তারা ঘটনাস্থলে যান। গোটা গ্রাম ঘিরে তল্লাশি চালানো হয় এবং একে একে গ্রামবাসীদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। কার্বি আংলং জেলার সিনিয়র পুলিশ সুপার পুষ্পরাজ সিং জানান, এখনও পর্যন্ত কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে গ্রামবাসীরা সকলে মিলে ঘটনার তথ্য গোপন করার চেষ্টা করছে। পুলিশ
এই ঘটনায় পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে ‘ডাইনি প্রতিরোধ আইন’-সহ ভারতীয় ন্যায়সংহিতার একাধিক ধারা অনুযায়ী মামলা রুজু করেছে। এই আইনে ডাইনি সন্দেহে নিপীড়ন বা হত্যা অ-জামিনযোগ্য ও গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। উল্লেখ্য, কার্বি আংলং জেলা মূলত বনাঞ্চল ও গ্রামীণ এলাকায় ঘেরা। প্রশাসনের দাবি, আইন থাকা সত্ত্বেও অতীতেও এখানে কুসংস্কারজনিত হিংসার ঘটনা ঘটেছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত দশ বছরে অসমে ডাইনি সন্দেহে শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে।


