অসমের কোকরাঝাড় জেলার নয়াসারা গ্রামে বুধবার এক উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একটি বাড়ির সামনে সন্দেহজনক গো-মাংস ও পশুর চামড়া পাওয়া যাওয়ার পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দ্রুতই গুজব ছড়িয়ে পড়ে এবং তা থেকে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার রূপ নেয়।
প্রশাসনের প্রাথমিক বক্তব্য অনুযায়ী, ওই মাংস কোথা থেকে এল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কেউ কেউ দাবি করেন, ইচ্ছাকৃতভাবে ওই বাড়ির সামনে তা ফেলা হয়েছে। আবার অন্য একটি অংশের মত, কাছাকাছি কোনও বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে মাংসটি এসে পড়ে থাকতে পারে। তবে এই বিষয়টি নিশ্চিত করতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
এই ঘটনার জেরে কিছুক্ষণের মধ্যেই একদল উত্তেজিত লোক গ্রামে মুসলিম পরিবারের বাড়িঘর লক্ষ্য করে হামলা চালায়। একাধিক বাড়িতে ভাঙচুর করা হয় এবং আসবাবপত্র নষ্ট করা হয়। ঘটনাস্থলের কিছু ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে, একটি বড় দল মুসলিম সম্প্রদায়ের বাড়িতে হামলা চালাচ্ছে। অভিযোগ, সেই সময় ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শুরুতে বেগ পেতে হয়।
পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাওয়ায় প্রশাসন বড় সংখ্যায় পুলিশ মোতায়েন করে। পরে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। বর্তমানে এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে, যাতে নতুন করে কোনও অশান্তি না ছড়ায়।
এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ইতিমধ্যেই সাতজনকে আটক করা হয়েছে, যাদের মধ্যে চারজন পুরুষ এবং তিনজন মহিলা রয়েছেন। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং পুরো ঘটনার পেছনে কারা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুই সম্প্রদায়কেই শান্ত থাকার আবেদন জানানো হয়েছে। তদন্তকারীরা এখন মূলত খতিয়ে দেখছেন, ওই মাংস আসলে কোথা থেকে এল এবং এর সঙ্গে কোনও পরিকল্পিত চক্রান্ত জড়িত ছিল কি না।
উল্লেখ্য, বোডোল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অঞ্চলে এর আগেও একাধিকবার সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে কোকরাঝাড় জেলায় অতীতে বড় ধরনের হিংসার নজির রয়েছে। ২০১৪ সালে সন্ত্রাসবাদী হামলায় বহু নিরীহ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। তারও আগে ২০১২ সালের সংঘর্ষে বহু মানুষ প্রাণ হারান এবং লক্ষাধিক মানুষ গৃহছাড়া হন।


