আসামে ‘পুশ ব্যাক’ নীতি কার্যকর করার কথা জানিয়েছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা জানিয়েছেন, বিদেশি ট্রাইবুনালে কাউকে বিদেশি হিসেবে চিহ্নিত করা হলে এক সপ্তাহের মধ্যেই তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে। তাঁর দাবি, গত তিন মাসে এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ২ হাজার মানুষকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ১৯৫০ সালের ‘ইমিগ্র্যান্টস এক্সপালশন ফ্রম আসাম অ্যাক্ট’ পুনরুজ্জীবিত করার পর। এই আইনের মাধ্যমে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের হাতে সরাসরি ‘অবৈধ অভিবাসী’ তাড়ানোর ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বিদেশি ট্রাইবুনালের দীর্ঘ প্রক্রিয়া এড়িয়ে প্রশাসন নিজেরাই ব্যবস্থা নিতে পারবে। গত সেপ্টেম্বর মাসে রাজ্য মন্ত্রিসভা এই আইনের অধীনে একটি নির্দিষ্ট কর্মপদ্ধতি বা এসওপি অনুমোদন করে।
হিমন্ত বিশ্বশর্মার দাবি, এই ক্ষেত্রে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে কোনও প্রত্যর্পণ চুক্তির প্রয়োজন নেই। রাজ্যের নতুন নীতির মাধ্যমে সেই চুক্তির প্রয়োজন কার্যত এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সঠিকভাবে শনাক্ত করা গেলে বছরে ১০ হাজার থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার মানুষকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো যেতে পারে।
আসামে বিদেশি ট্রাইবুনালগুলি আধা-আদালতের মতো কাজ করে এবং নাগরিকত্ব সংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তি করে থাকে। কেউ বিদেশি ঘোষিত হলে সেই রায়ের বিরুদ্ধে গৌহাটি হাইকোর্ট কিংবা সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, যাতে উচ্চ আদালতে মামলা গিয়ে বিষয়টি দীর্ঘদিন ঝুলে না থাকে, সে কারণেই দ্রুত ‘পুশ ব্যাক’-এর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগে কেউ বিদেশি ঘোষিত হওয়ার পর রাজ্য সরকারের হাতে কার্যত কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ ছিল না। সেই কারণেই ডিটেনশন সেন্টার তৈরি করা হয়েছিল। তাঁর মতে, সেখানে থাকা মানুষজন অনেক সময় রাজ্যের তরফে এমন কিছু সুবিধা পেতেন, যা তাঁদের গ্রামের জীবনেও নাও থাকতে পারে।
এই নীতির প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক সময়ে বিজেপি-শাসিত একাধিক রাজ্যে বাংলা ভাষাভাষী মুসলিমদের আটকে নাগরিকত্বের প্রমাণ চাওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। কিছু ক্ষেত্রে ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে মানুষকে সীমান্ত পার করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আবার এমন ঘটনাও ঘটেছে, যেখানে ভুল করে বাংলাদেশে পাঠানো ব্যক্তিরা পরে নথি দেখিয়ে ভারতে ফিরে এসেছেন।
এই পরিস্থিতিতে আসাম সরকারের নতুন ‘পুশ ব্যাক’ নীতি নাগরিকত্ব, মানবাধিকার এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার প্রয়োগ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।


