দেশের নানা প্রান্তে কাজের খোঁজে বেরিয়ে পড়া কাশ্মীরি শাল বিক্রেতাদের উপর হামলার ঘটনা দিন দিন বাড়ছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় সেই আতঙ্ক আরও গভীর হয়েছে। হরিয়ানা ও হিমাচল প্রদেশে পৃথক দু’টি ঘটনায় হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের সদস্যদের হাতে নিগৃহীত হয়েছেন কাশ্মীরি শাল বিক্রেতারা। এর ঠিক ক’দিন আগেই উত্তরাখণ্ডে বজরং দলের হাতে আক্রান্ত হন আর এক কাশ্মীরি বিক্রেতা।
হিমাচল প্রদেশের কাংড়া জেলার দেহরা এলাকায় যে ঘটনাটি ঘটেছে, সেখানে আক্রান্ত ব্যক্তির নাম জেহাঙ্গির আহমদ। জম্মু ও কাশ্মীর স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, তাঁকে প্রকাশ্যে মারধর করা হয় এবং হামলার তীব্রতায় তাঁর শরীরে একাধিক আঘাত ও হাড় ভাঙার মতো গুরুতর জখম হয়। বর্তমানে তিনি হিমাচলের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন জানাচ্ছে, চলতি বছরে হিমাচল প্রদেশে এই ধরনের ঘটনা এই নিয়ে ষোড়শ। শুধু মারধরই নয়, জেহাঙ্গিরকে হুমকি দেওয়া হয় রাজ্য ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য। তাঁকে শাল বিক্রি করতেও বাধা দেওয়া হয়। ঘটনার ভিডিও রেকর্ড করতে গেলে ভাঙচুর করা হয় তাঁর জিনিসপত্র, এমনকি মোবাইল ফোনটিও ভেঙে দেওয়া হয়।
সবচেয়ে যন্ত্রণার বিষয়, জেহাঙ্গির গত ১৫ বছর ধরে ওই এলাকাতেই শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। স্থানীয়দের সঙ্গে তাঁর কোনও বিরোধ ছিল না। তবুও তাঁকে গালিগালাজ করা হয়, প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় এবং বলা হয়— কাশ্মীরিরা এখানে আর কাজ করতে পারবে না।
এই ঘটনার পর হিমাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী সুখবিন্দর সিং সুখুর কাছে অবিলম্বে হস্তক্ষেপ ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে জম্মু ও কাশ্মীর স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন।
অন্যদিকে, হরিয়ানার কৈথাল এলাকাতেও এক কাশ্মীরি শাল বিক্রেতাকে হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, এক ব্যক্তি ওই বিক্রেতাকে ‘বন্দে মাতরম’ বলতে বাধ্য করছে এবং তাঁকে বাংলাদেশি বলে অপমান করছে। এই ঘটনাতেও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।
সংগঠনের জাতীয় কনভেনর নাসির খুয়েহামি হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রীর মিডিয়া উপদেষ্টা রাজীব জৈতলির সঙ্গে কথা বলেন। জৈতলি আশ্বাস দেন, কাশ্মীরি শাল বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে এই ধরনের হিংসা ও ভীতি প্রদর্শন কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না এবং কৈথাল-কুরুক্ষেত্র এলাকায় ঘটে যাওয়া ঘটনার জন্য কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের বক্তব্য, সাম্প্রদায়িক ঘৃণা যদি এভাবে বাড়তে দেওয়া হয়, তাহলে তা সমাজের জন্য ভয়ঙ্কর পরিণতি ডেকে আনবে। আইন ও মানবিকতার স্বার্থে এই ধরনের হিংসা, ভীতি প্রদর্শন ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
প্রতি বছর শীতের মরশুমে জীবিকার তাগিদে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে শাল ও কার্পেট বিক্রি করতে যান বহু কাশ্মীরি মানুষ। কিন্তু সাম্প্রতিক এই ঘটনাগুলি তাঁদের জীবিকা ও নিরাপত্তা— দুইয়ের ওপরই বড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিচ্ছে।


