মধ্যপ্রাচ্যের হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর বড়সড় হামলার ঘটনা ঘটেছে। ওমানের কাছাকাছি সমুদ্রে ভারতীয় জাহাজ লক্ষ্য করে এই আক্রমণ চালানো হয়। গোলার আঘাতে এমটি জলবীর নামের একটি ভারতীয় জাহাজের ইঞ্জিন রুমে দাউদাউ করে আগুন ধরে যায়। এর পাশাপাশি ওই একই এলাকায় আমেরিকার চালানো একটি হামলায় এমটি সেত্তেবেল্লো নামের আরও একটি তেল ট্যাঙ্কার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই তেল ট্যাঙ্কারটিতে মোট চব্বিশ জন ভারতীয় নাবিক কর্মরত ছিলেন। মার্কিন এই আগ্রাসনের জেরে ওই জাহাজে থাকা তিনজন ভারতীয় নাবিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থার তরফ থেকে প্রথমে ওই তিন ভারতীয় নাবিক নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানানো হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে নিশ্চিত হওয়া যায় যে হামলায় তাঁদের মৃত্যু হয়েছে। কেন্দ্রীয় জাহাজমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনওয়াল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স হ্যান্ডলে এই বেদনাদায়ক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে নিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন যে নিখোঁজ থাকা তিন ভারতীয় নাবিকের মৃতদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। ভারতীয় নাবিক সমাজ এবং দেশের জন্য এটি একটি অপূরণীয় ও বিরাট ক্ষতি। এই কঠিন ও সংকটের সময়ে মোদী সরকার নিহতদের পরিবারের পাশে দৃঢ়ভাবে রয়েছে। নিহত নাবিকদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার এবং আহতদের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সব রকম জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভারতের পক্ষ থেকে এই পুরো ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। আক্রান্ত জাহাজটির মালিকানাধীন সংস্থা জানিয়েছে, যুদ্ধবিধ্বস্ত ওই এলাকায় তীব্র নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে বাকি নাবিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা এবং তাঁদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার কাজে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। প্রাথমিক সূত্রে জানা গেছে, ওই তেল ট্যাঙ্কারটিকে সরাসরি নিশানা করেই এই হামলা চালিয়েছিল মার্কিন সামরিক বাহিনী। এই ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যের জলপথে ভারতীয় জাহাজের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল।

