হাওড়ার বাগনান গ্রামীণ হাসপাতালে এক অসুস্থ মেয়ের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে এসে তার মা শারীরিক ও মানসিকভাবে অপমানের শিকার হয়েছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এবং হাসপাতালের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওই মহিলা তাঁর অসুস্থ কন্যাকে নিয়ে কয়েকদিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। সেই সময়েই মনোজ বেরা নামের এক যুবক, অশালীন প্রস্তাব দেয় বলে অভিযোগ। মহিলার দাবি, তিনি প্রতিবাদ করতেই ওই ব্যক্তি তাঁকে ভয় দেখায় এবং জানায়, হাসপাতালে এমন আচরণ নাকি সাধারণ বিষয়। এমনকি মেয়ের চিকিৎসা করাতে গেলে তার কথামতো চলতে হবে বলেও হুমকি দেয়।
ঘটনার পর ওই মহিলা স্থানীয় থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু অভিযোগ তোলার পর থেকেই তিনি ও তাঁর পরিবার নানাভাবে ভয়ভীতি পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন হাসপাতালের অন্যান্য মহিলা কর্মীরাও। জানা গেছে, প্রায় ১৭ জন মহিলা স্বাস্থ্যকর্মী নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত।
অভিযুক্ত মনোজ বেরা হাসপাতালের কোনও কর্মী না হলেও, সে প্রায়ই সেখানে যাতায়াত করত। রোগীদের জন্য খাবার আনা, ওষুধ সংগ্রহ করা বা স্যালাইনের কাজেও তাকে দেখা যেত। হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় তার চলাফেরার উপর বিশেষ নজর ছিল না।
এই ঘটনার প্রতিবাদে ‘অভয়া মঞ্চ’ সংগঠন এগিয়ে আসে। সংগঠনের সদস্যরা ও আক্রান্ত পরিবারের লোকজন মিলে বাগনান থানায় একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেন। তাঁদের দাবি, দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তি দিতে হবে এবং হাসপাতালের নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, ইতিমধ্যেই অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছে। তবে অভিযুক্ত এখন পলাতক। তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে এবং শীঘ্রই গ্রেপ্তার করা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও স্বীকার করেছে, দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তার ঘাটতি রয়েছে। আগে কিছু সিভিক ভলান্টিয়ার দিয়ে এই কাজ চালানো হলেও এখন সেই ব্যবস্থাও নেই। ফলে রোগী ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এই ঘটনার পর উচ্চপদস্থ কর্তাদের কাছে নিরাপত্তা জোরদারের আবেদন জানানো হয়েছে।


