সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে ট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তি হওয়া ভোটারদের একটি অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। বুধবার ভোররাতে প্রকাশিত এই তালিকা ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। কারণ, বহু আবেদন জমা পড়লেও প্রথম দফার ভোটে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন খুবই অল্প সংখ্যক মানুষ।
কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ট্রাইব্যুনালে যাঁদের আবেদন নিষ্পত্তি হয়েছে, তাঁদের মধ্যে মাত্র ১৩৬ জনের নামই ভোটার তালিকায় যুক্ত হয়েছে। ফলে তাঁরাই ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোটে অংশ নিতে পারবেন। অন্যদিকে, একই তালিকায় থাকা দু’জনের নাম আবার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বলেও জানা গেছে। এই ঘটনাকে ঘিরেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বিভিন্ন মহলে।
পূর্বে নির্বাচন কমিশন যে খসড়া তালিকা প্রকাশ করেছিল, সেখানে বহু মানুষের নাম যাচাইয়ের জন্য রাখা হয়েছিল। পরে বিচারিক কর্তৃপক্ষ সেই নামগুলি পরীক্ষা করে দেখেন। যাঁদের নাম তালিকায় ওঠেনি, তাঁদের অনেকেই ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হন। এরপর সুপ্রিম কোর্ট বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে নির্দেশ দেয়, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যাঁদের আবেদন নিষ্পত্তি হবে এবং যাঁদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবে, তাঁরা পর্যায়ক্রমে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন।
এই নির্দেশ অনুযায়ী, ২১ এপ্রিল পর্যন্ত যাঁদের আবেদন মঞ্জুর হয়েছে, তাঁরা প্রথম দফার ভোটে অংশ নিতে পারবেন। পরবর্তী সময়ে আরও কিছু নাম নিষ্পত্তি হলে, তাঁরা দ্বিতীয় দফায় ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে বাস্তবে এত কম সংখ্যক নাম যুক্ত হওয়ায় শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস তীব্র আপত্তি জানিয়েছে। দলের এক শীর্ষ নেতা বলেন, এত অল্প সময়ে এত কম মানুষের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক। তাঁর অভিযোগ, বহু মানুষের ভোটাধিকার কার্যত খর্ব করা হয়েছে।
অন্যদিকে, বিজেপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সব আবেদন যথাযথভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেই এমন ফলাফল সামনে এসেছে। তাঁদের দাবি, যাঁরা প্রয়োজনীয় তথ্য ও প্রমাণ দিতে পেরেছেন, তাঁদের নামই তালিকায় স্থান পেয়েছে। তাই এই প্রক্রিয়া নিয়ে অযথা বিতর্ক তৈরি করার কোনও কারণ নেই। এদিকে, ট্রাইব্যুনালের তরফে আগে জানানো হয়েছিল, কোনও আবেদনকারীর সঙ্গে কথা না বলে তাঁর নাম বাদ দেওয়া হবে না। কিন্তু প্রকাশিত তালিকায় দু’জনের নাম বাদ পড়ায় সেই প্রতিশ্রুতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ভোটের আগে এই ইস্যু নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোরের কারণ হয়ে উঠেছে।


