উত্তরপ্রদেশের আগ্রা শহরে নতুন করে এক বিতর্ক সামনে এসেছে। কয়েকটি মসজিদ, মাজার ও মাদ্রাসাকে ঘিরে একটি নোটিস জারি হওয়ায় স্থানীয় মুসলিম সম্প্রায়ের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এই নোটিসটি দিয়েছেন কুনওয়ার অজয় তোমর, যিনি যোগী ইউথ ব্রিগেড-এর সঙ্গে যুক্ত। তাঁর পক্ষ থেকে প্রশাসনকে ২৭টি মুসলিম ধর্মীয় স্থানের বিরুদ্ধে ৬০ দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। নোটিসের কপি জেলা প্রশাসন, পুরসভা এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দফতরেও পাঠানো হয়েছে।
নোটিসে দাবি করা হয়েছে, এই ধর্মীয় স্থাপনাগুলির মধ্যে কয়েকটি নাকি সরকারি জমিতে বা রাস্তার ধারে তৈরি হয়েছে। কিছু জায়গায় আবার অভিযোগ, এগুলি পথ চলাচলে অসুবিধা তৈরি করছে। সিকান্দ্রা, টেঢি বাগিয়া এবং এমজি রোড এলাকার নাম উল্লেখ করে বলা হয়েছে, কোথাও রাস্তার মাঝখানে মসজিদ রয়েছে, আবার কোথাও পার্ক বা হাইওয়ের ধারে মাজার রয়েছে।
অজয় তোমর জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশ মেনে জমি দখল সংক্রান্ত বিষয়গুলির সমাধান করতেই তিনি এই আবেদন করেছেন। তাঁর দাবি, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পদক্ষেপ না নেওয়া হলে তিনি আইনি পথে এগোবেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও এমন তালিকা জমা দেওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন।
তবে এই ঘটনার পর থেকেই স্থানীয় মানুষের মধ্যে চিন্তা বাড়ছে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রায়ের অনেকেই বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের বক্তব্য, ধর্মীয় স্থান অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়, তাই কোনও পদক্ষেপ নেওয়ার আগে ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি। এক বাসিন্দার কথায়, “আইন মেনে সঠিক তদন্ত করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত, একতরফা পদক্ষেপ ঠিক নয়।”
আরও অনেকে মনে করছেন, যদি জমি দখল বা বেআইনি নির্মাণের প্রশ্ন ওঠে, তাহলে সব সম্প্রায়ের ক্ষেত্রেই একই নিয়মে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। কোনও বিশেষ গোষ্ঠীকে আলাদা করে দেখলে পরিস্থিতি জটিল হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তাঁরা।
এই বিষয়ে প্রশাসনের তরফে এখনও বিস্তারিত কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমজি রোডের একটি স্থাপনা নিয়ে যে মামলা চলছে, সেটিরও শুনানি আগামী মে মাসে হওয়ার কথা। ফলে পুরো বিষয়টির দিকে এখন নজর রয়েছে প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের।


