স্ট্রং রুমের নিরাপত্তা ও নজরদারি নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়াল উত্তর ২৪ পরগনার বারাসাতে। বারাসাত গভর্নমেন্ট কলেজে থাকা স্ট্রং রুমে দীর্ঘ সময় সিসিটিভি মনিটর বন্ধ ছিল বলে অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। অভিযোগ ঘিরে এলাকায় চরম উত্তেজনা তৈরি হয়।
তৃণমূল নেতা সব্যসাচী দত্ত এবং অশোকনগর বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী নারায়ণ গোস্বামী অভিযোগ করেন, সকাল ৮টা ৫ মিনিট থেকে ৮টা ২২ মিনিট পর্যন্ত স্ট্রং রুমের সিসিটিভি মনিটর সম্পূর্ণ ব্ল্যাক হয়ে যায়। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্ট্রং রুমের সামনে জড়ো হন তৃণমূল কর্মী-সমর্থকেরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসনিক আধিকারিকরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছন।
জানা গিয়েছে, বারাসাত গভর্নমেন্ট কলেজের এই স্ট্রং রুমে বারাসাত, হাবড়া, অশোকনগর এবং দেগঙ্গা—এই চারটি বিধানসভা কেন্দ্রের ইভিএম রাখা রয়েছে। এখানেই ভোটগণনা হওয়ার কথা। স্ট্রং রুমের সিসিটিভি ফুটেজের একটি লাইভ আউটপুট বাইরে মাঠে থাকা মনিটরে দেখানো হচ্ছিল।
সব্যসাচী দত্ত বলেন, “সকাল ৮টা ৫ মিনিট থেকে সিসিটিভির ফিড ব্ল্যাক হয়ে যায়। আমাদের প্রতিনিধিরা বসে দেখছিলেন যে ক্যামেরা বন্ধ। পুরো ফুটেজ দেখাতে হবে। নির্বাচন কমিশন আমাদের সঙ্গে খেলা করছে কিনা সন্দেহ হচ্ছে। ব্যবস্থা না নিলে আমরা আদালতে যাব।”
অশোকনগরের প্রার্থী নারায়ণ গোস্বামী দাবি করেন, “৮টা ২২ মিনিট পর্যন্ত মনিটর বন্ধ ছিল। স্বাভাবিকভাবেই আমাদের উদ্বেগ তৈরি হয়। পরে জানানো হয়েছে সিসিটিভি চলছিল, কিন্তু কেউ মনিটর বন্ধ করে দিয়েছিল। তাহলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কমিশনের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।” তৃণমূলের দাবি, ওই ২২ মিনিটের সম্পূর্ণ ফুটেজ প্রকাশ করতে হবে এবং কে মনিটর বন্ধ করেছিল তা খুঁজে কড়া পদক্ষেপ নিতে হবে।
ঘটনা নিয়ে বারাসাতের সহকারী রিটার্নিং অফিসার (এআরও) অভিজিৎ দাস জানান, “সকাল ৮টা ৫ থেকে ৮টা ২০ পর্যন্ত বাইরের মনিটরে ফিড দেখা যাচ্ছিল না। ৮টা ৭ মিনিটে আমাদের কাছে খবর আসে। পরে দেখা যায় বাইরের মনিটরের পাওয়ার অফ ছিল। সুইচ অন করতেই ফিড ফিরে আসে। স্ট্রং রুমের ভিতরের সিসিটিভি চালু ছিল। বাইরে থেকে কে সুইচ অফ করেছিল তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”
অন্যদিকে বিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, তাঁদের প্রতিনিধিদের স্ট্রং রুম এলাকায় ঢুকতে দেওয়া হয়নি, যা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। স্ট্রং রুমের নিরাপত্তা ও নজরদারি নিয়ে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।


