দক্ষিণ ২৪ পরগনার দুই বিধানসভা কেন্দ্রে শনিবার ফের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। মগরাহাট পশ্চিমের ১১টি এবং ডায়মন্ড হারবারের ৪টি বুথে এই পুনর্নির্বাচন চলছে। সকাল ৭টা থেকেই ভোটাররা লাইনে দাঁড়িয়ে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে শুরু করেন। গোটা প্রক্রিয়া যাতে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়, তার জন্য পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী কড়া নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে।ভোট শুরুর পর প্রথম দেড় ঘণ্টা পর্যন্ত কোথাও কোনও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই ভোটগ্রহণ এগোচ্ছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। ভোটকেন্দ্রগুলিতে নজরদারি বাড়াতে সিসিটিভি এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, প্রথম দফার ভোটের পর তেমন কোনও অভিযোগ সামনে না এলেও, দ্বিতীয় দফা শেষ হতেই একাধিক বুথে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। মোট ৭৭টি বুথে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানানো হয়। এই অভিযোগগুলির বেশিরভাগই দক্ষিণ ২৪ পরগনার চারটি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জমা পড়ে।অভিযোগের তালিকায় ছিল নানা ধরনের অনিয়মের কথা। কোথাও ইভিএম মেশিনে কারচুপির চেষ্টা, কোথাও আবার ভোটগ্রহণের সময় ক্যামেরা ঢেকে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এমনকি ভোটারদের উপর নজরদারি চালানোর জন্য গোপন ক্যামেরা ব্যবহারের অভিযোগও জমা পড়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে। এসব অভিযোগ সামনে আসতেই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখতে শুরু করে কমিশন।পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বিভিন্ন বুথ ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেন। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই কমিশন কয়েকটি বুথে পুনরায় ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়।তবে সব অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও ফলতা কেন্দ্রের কোনও বুথে পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিভিন্ন দল একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছে এবং কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।বিশেষ করে দ্বিতীয় দফার ভোটের সময় কড়া নিরাপত্তা থাকা সত্ত্বেও কেন আবার ভোট করতে হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে নানান মহলে। তাদের দাবি, এত নজরদারির পরও যদি অনিয়মের অভিযোগ ওঠে, তাহলে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েই প্রশ্ন থেকে যায়।
Popular Categories


