পাঁচটি রাজ্যের বিধানসভা ভোট শেষ হতেই জ্বালানির দামে বড়সড় বৃদ্ধির খবর সামনে এসেছে। এর জেরে নতুন করে চিন্তায় পড়েছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ছোট ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে বাণিজ্যিক রান্নার গ্যাসের দামে হঠাৎ বড় উল্লম্ফন হওয়ায় বাজারে তার প্রভাব পড়বে বলেই মনে করছেন অনেকে।সম্প্রতি ১৯ কেজির বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের দাম এক লাফে ৯৯৩ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এক দিনে এতটা বৃদ্ধি বিরল বলেই মত বিভিন্ন মহলের। শুধু তাই নয়, অটোচালকদের ব্যবহৃত এলপিজির দামও বেড়েছে ৬ টাকা ৪৪ পয়সা। ফলে পরিবহন খরচ বাড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন বিরোধী কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি সামাজিক মাধ্যমে অভিযোগ করেন, ভোট শেষ হওয়ার পরেই এই মূল্যবৃদ্ধি কার্যত পরিকল্পিত। তাঁর মতে, নির্বাচনী খরচের চাপ সামলাতেই সাধারণ মানুষের উপর এই বাড়তি বোঝা চাপানো হচ্ছে। তিনি আরও দাবি করেন, গত ফেব্রুয়ারি থেকে মাত্র তিন মাসে বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম প্রায় ১,৩৮০ টাকা বেড়েছে, যা প্রায় ৮১ শতাংশ বৃদ্ধি।এই মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়বে ছোট ব্যবসায়ীদের উপর। চায়ের দোকান, ধাবা, হোটেল, বেকারি কিংবা মিষ্টির দোকানের মতো প্রতিষ্ঠানগুলিতে রান্নার খরচ বেড়ে যাবে। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই খাবারের দাম বাড়ানো ছাড়া উপায় থাকবে না। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচেই এসে পড়বে।রাহুল গান্ধী আরও সতর্ক করে বলেছেন, এটি কেবল শুরু। তাঁর আশঙ্কা, আগামী দিনে পেট্রল ও ডিজেলের দামও বাড়তে পারে। যদি তা হয়, তাহলে পরিবহন থেকে শুরু করে প্রায় সব ক্ষেত্রেই ব্যয়ের চাপ আরও বাড়বে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানির দামের এই ঊর্ধ্বগতি সামগ্রিক অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। ইতিমধ্যেই নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষ চাপে রয়েছেন। তার উপর নতুন করে জ্বালানির দাম বাড়লে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। ভোট পরবর্তী এই মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
ভোটের খরচ তুলতেই গ্যাসের দাম বাড়ালো বিজেপি! পেট্রল-ডিজেল নিয়েও আশঙ্কা, কেন্দ্রকে কড়া আক্রমণ রাহুল গান্ধীর
Popular Categories


