বেরেলির উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডিএ) শহরের দুটি বিয়ের অনুষ্ঠান ভবনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানা গেছে। এই অনুষ্ঠান ভবন দুটি ‘গুড ম্যারেজ হল’ এবং ‘আইওয়ান-ই-ফারহাত’—ইত্তেহাদ-ই-মিল্লাত কাউন্সিলের (আইএমসি) সভাপতি মাওলানা তৌকির রাজার সমর্থকদের সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ উঠেছে। তৌকির রজা বর্তমানে কারাবন্দি। গত ২৬ সেপ্টেম্বর শহরে “আই লাভ মুহাম্মদ” পোস্টারকে ঘিরেবিক্ষোভে অশান্তির জেরে তাকে ও তার কয়েকজন ঘনিষ্ঠকে গ্রেফতার করা হয়।
বিডিএ সূত্রে জানা গেছে, এই দুটি অনুষ্ঠান ভবন বহু বছর আগে যথাযথ অনুমতি ছাড়াই নির্মাণ করা হয়েছিল। ২০১১ সালেই এগুলোর বিরুদ্ধে ভাঙার নির্দেশ জারি হয়েছিল। চলতি বছরের ১ ডিসেম্বর আইওয়ান-ই-ফারহাতকে নোটিস পাঠায় বিডিএ। বারাদরি থানার পুলিশ জানিয়েছে, তারা নোটিস পেয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে জায়গাটি পরিদর্শনও করেছে। গুড ম্যারেজ অনুষ্ঠান ভবনের মালিক রশিদ খান খবর পেয়েই হলের ভেতর থেকে জিনিসপত্র সরাতে শুরু করেন। তবে সেদিনই ভাঙার কাজ করা হয়নি। বিডিএর কর্মীরা বিকেলের দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছন, এবং জনবল কম থাকার কারণ দেখিয়ে অভিযান স্থগিত রাখেন।
এদিকে স্থানীয় মহলের একাংশ অভিযোগ করেছেন যে প্রশাসনের পদক্ষেপ পক্ষপাতদুষ্ট মনে হচ্ছে। তাদের দাবি, তৌকির রাজার সমর্থকদের সঙ্গে যুক্ত অনুষ্ঠান ভবনগুলির বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হলেও, সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায়ের যেসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে অশান্তির সময়ে হামলার অভিযোগ উঠেছিল, তাদের বিরুদ্ধে কোনও দৃশ্যমান ব্যবস্থা হয়নি।
শহরের মুসলিম বাসিন্দাদের অনেকেই মনে করছেন, তৌকির রাজার আত্মীয়, সহকারী এবং ওই বিক্ষোভে উপস্থিত কিছু মুসলিম যুবককে পরিকল্পিতভাবে নিশানা করা হয়েছে। রজার সমর্থকেরা বলছেন, প্রায় ২০ বছর আগে দেওয়া ভাঙার নির্দেশ হঠাৎ এখন কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া স্পষ্টভাবে প্রতিহিংসার ইঙ্গিত দেয়। তাদের অভিযোগ, অশান্তির সময়ে ক্ষতি করা অন্য সম্পত্তিগুলোর বিরুদ্ধে এ ধরনের কোনও পদক্ষেপ দেখা যায়নি।


