মধ্যপ্রদেশের ভোপালে অবস্থিত বরকতউল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগকে ঘিরে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক্সিকিউটিভ কাউন্সিল সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির নাম বদলে “বাগদেবী ভোজপাল বিশ্ববিদ্যালয়” করার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। এই প্রস্তাব এখন চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মধ্যপ্রদেশের রাজ্যপালের কাছে পাঠানো হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়টির বর্তমান নামকরণ হয়েছিল স্বাধীনতা সংগ্রামী মৌলানা বরকতউল্লাহ ভোপালির স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে। তিনি ছিলেন ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা এবং ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রামের অন্যতম মুখ। তাঁর নাম সরানোর উদ্যোগ প্রকাশ্যে আসতেই বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ইতিহাস অনুযায়ী, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯১৫ সালের ১ ডিসেম্বর আফগানিস্তানের কাবুলে ভারতের একটি অস্থায়ী নির্বাসিত সরকার গঠিত হয়েছিল। সেই সরকারের রাষ্ট্রপতি ছিলেন রাজা মহেন্দ্র প্রতাপ সিং এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন মৌলানা বরকতউল্লাহ। এটিকে ভারতের প্রথম নির্বাসিত সরকার হিসেবেও উল্লেখ করা হয়।
স্বাধীনতা আন্দোলনকে আন্তর্জাতিক স্তরে পৌঁছে দিতে বরকতউল্লাহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তিনি লালা হরদয়াল ও তারকনাথ দাসের মতো বিপ্লবীদের সঙ্গে মিলে গদর পার্টির কার্যক্রমকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করেন। বিদেশে বসে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার কাজে তিনি সক্রিয় ছিলেন।
মৌলানা বরকতউল্লাহ ছিলেন অসাধারণ মেধাবী একজন ব্যক্তি। উর্দু, ইংরেজি, আরবি, ফারসি, তুর্কি ও জাপানি-সহ মোট আটটি ভাষায় তাঁর দক্ষতা ছিল। এক সময় তিনি জাপানের টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ে হিন্দুস্তানি ভাষাও পড়িয়েছিলেন।
দেশের স্বাধীনতার লক্ষ্য পূরণে তিনি জীবনের বড় অংশ বিদেশে কাটিয়েছেন। ইংল্যান্ড, আমেরিকা, জাপান, জার্মানি, তুরস্ক ও রাশিয়ায় ঘুরে ঘুরে তিনি ভারতের স্বাধীনতার পক্ষে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করেন। এমনকি এই উদ্দেশ্যে তিনি সোভিয়েত নেতা ভ্লাদিমির লেনিনের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছিলেন বলে জানা যায়।
বিদেশে অবস্থানকালে তিনি ‘ইসলামিক ফ্র্যাটারনিটি’ ও ‘আল-ইসলাম’ নামে পত্রিকা প্রকাশ করেন। এসব লেখার মাধ্যমে ব্রিটিশ শাসনের কঠোর সমালোচনা করতেন তিনি। তাঁর কার্যকলাপ এতটাই প্রভাব ফেলেছিল যে ব্রিটিশ সরকার তাঁকে ভারতে ফিরে আসার অনুমতি দেয়নি।
১৯২৭ সালের ২০ সেপ্টেম্বর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোতে তাঁর মৃত্যু হয়। স্বাধীন ভারতের স্বপ্ন তখনও বাস্তবায়িত হয়নি। পরে তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৮৮ সালে ভোপাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে বরকতউল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয় রাখা হয়। এখন সেই নাম আবার বদলানোর উদ্যোগ নেওয়ায় ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের স্মৃতি রক্ষার প্রশ্নে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।


