
ভোটের আগে বহরমপুরে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়াল তৃণমূল নেতা রাজু মণ্ডলকে ঘিরে বিতর্ক। ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভয় দেখানো ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই জামিনে মুক্তি পেলেন বহরমপুর পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল সভাপতি রাজু মণ্ডল। জামিন পাওয়ার পর তাঁর মন্তব্য ঘিরে ফের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক।
অভিযোগ, বহরমপুরে তৃণমূল প্রার্থীর হয়ে প্রচারে বেরিয়ে ভোটারদের উদ্দেশ্যে হুমকির সুরে কথা বলেন রাজু মণ্ডল। ভোটারদের শাসানো ও ভয় দেখানোর অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। একটি ভাইরাল ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “পাড়ার ছেলে পাড়ার লোক যারা তৃণমূল করে মানুষের পাশে ২৪ ঘন্টা থাকে, তাদেরকে ভোট দিতে হবে। এবছর যেন ভোট নষ্ট না হয়, পরিষ্কার ভাবে বলে দিচ্ছি খাতা এন্ট্রি করা থাকবে কোন বাড়ির কে ভোট দিচ্ছে। ক্যামেরা থাকবে এবার। যা ভোট হবে সব লাইভ হবে”।
ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের নির্দেশে ভোটারদের ভয় দেখানোর অভিযোগে উপযুক্ত ধারায় মামলা রুজু করে রাজ্য পুলিশ। শনিবার রাজু মণ্ডলকে গ্রেফতার করা হয়। তবে গ্রেফতারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ব্যক্তিগত বন্ডে আদালত তাঁকে জামিন দেয়।
জামিনে মুক্তির পর থানা থেকে বাইকে বেরোনোর সময় সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রাজু মণ্ডল বলেন, “আমি এখন কিছু বলব না। ২৩ তারিখের পর ফের দেখা হবে। তখনই বোঝানো হবে।” তাঁর এই মন্তব্যকে নতুন করে ‘হুমকি’র ইঙ্গিত হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক মহল। কেন তিনি সহজেই জামিন পেলেন, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
এই প্রসঙ্গে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ পুলিশ মানছে না। জামিনযোগ্য ধারায় মামলা করলে জামিন তো পাবেই।” ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভোটের মুখে বহরমপুরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হয়েছে।


