ভবানীপুর বিধানসভা এলাকায় খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর অস্বাভাবিক সংখ্যক নাম বাদ পড়ার বিষয়টি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে মঙ্গলবার কালীঘাটে নিজের বাসভবনে তৃণমূল কংগ্রেসের বুথ স্তরের প্রতিনিধিদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠকে তিনি স্পষ্ট জানান, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রতিটি ধাপ তিনি নিজে নজরে রাখছেন এবং এই বিষয়ে কোনও গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না।
নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভবানীপুরে নথিভুক্ত ভোটারের সংখ্যা দুই লক্ষেরও বেশি হলেও যাচাই করা তালিকায় অনেক নাম অনুপস্থিত। হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৪৪ হাজার ৭৮৬ জন ভোটারের নাম খসড়া তালিকায় নেই। বৈঠকে দলের কয়েকজন নেতা জানান, বহু ক্ষেত্রে ভোটারদের মৃত হিসেবে চিহ্নিত করে তালিকা থেকে নাম মুছে ফেলা হয়েছে। এই তথ্য সামনে আসতেই মুখ্যমন্ত্রী অসন্তোষ প্রকাশ করেন। অভিযোগ ওঠে, কিছু ওয়ার্ডে এই প্রবণতা বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, এমনকি মুখ্যমন্ত্রীর নিজের ভোটকেন্দ্রেও এমন উদাহরণ পাওয়া গেছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তোলেন, জীবিত মানুষের নাম কীভাবে বাদ দেওয়া সম্ভব। তিনি অবিলম্বে নির্দেশ দেন, প্রতিটি সংশ্লিষ্ট পরিবারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে প্রকৃত তথ্য যাচাই করতে হবে। বৈঠকে বুথ কর্মীদের একাংশ জানান, অনেক বাসিন্দা প্রয়োজনীয় ফর্ম পূরণ করে জমা না দেওয়ায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। তবে মুখ্যমন্ত্রী এই ব্যাখ্যাকে যথেষ্ট বলে মানেননি। তিনি জানান, সব বাদ পড়া ভোটারের বর্তমান ঠিকানা ও পরিচয় নতুন করে নিশ্চিত করতে হবে।
ভবানীপুর এলাকায় বিভিন্ন রাজ্য থেকে আসা মানুষের বসবাস রয়েছে। কমিশনের দাবি, কেউ কেউ অন্য রাজ্যের ভোটার তালিকায় নাম রেখে এখান থেকে বাদ গিয়েছেন। তবুও মুখ্যমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ, এই প্রক্রিয়ায় যেন কোনও বৈধ ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন না হয়। ভোটার তালিকা সংশোধনের শুনানির সময় সাধারণ মানুষকে সহায়তা করতে পাড়ায় পাড়ায় তথ্য ও সহায়তা কেন্দ্র চালু রাখার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। যাদের নথিপত্র বা আবেদন সংক্রান্ত সমস্যায় পড়তে হচ্ছে, তাদের হাতে-কলমে সাহায্য করার পাশাপাশি প্রয়োজনে বাড়িতে গিয়ে সহযোগিতার কথাও বলা হয়। বৈঠকে দলের রাজ্য নেতৃত্ব, কলকাতার মেয়রসহ একাধিক জনপ্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গিয়েছে।


