মধ্যপ্রদেশের ঐতিহাসিক ভোজশালা কামাল মাওলা মসজিদকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। হাইকোর্টের সাম্প্রতিক রায়ের পর শুক্রবার বহু বছরের প্রচলিত জুম্মার নামাজ হয়নি। আদালতের নির্দেশে ওই স্থানের ধর্মীয় পরিচয় বদলে যাওয়ার পর থেকেই এলাকায় চাপা অশান্তির আবহ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসন কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে।এর আগে বহু বছর ধরে একটি নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে সেখানে ধর্মীয় কার্যক্রম চলত। শুক্রবার মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ মসজিদের ভিতরে জুম্মার নামাজ আদায় করতেন এবং মঙ্গলবার হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ বাইরে পূজা করতেন। স্থানীয় মানুষও সেই ব্যবস্থাকে মেনে নিয়েছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি আদালত জানায়, বিভিন্ন সমীক্ষা ও পুরাতাত্ত্বিক তথ্য অনুযায়ী এটি আগে একটি মন্দির ছিল। এরপর পুরনো নির্দেশ বাতিল করে স্থানটিকে সরস্বতী মন্দির হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।রায়ের পরপরই সেখানে হিন্দু সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে পূজা ও আরতির আয়োজন শুরু হয়। মসজিদের যে অংশে আগে ইমাম বক্তব্য রাখতেন, সেই জায়গাতেই ধর্মীয় আচার পালনের ছবি সামনে আসে। গোটা এলাকা ঢাক, ঘণ্টা ও বাজির শব্দে মুখর হয়ে ওঠে। শুক্রবার দুপুরে সেখানে বিশেষ ভোজের আয়োজনও করা হয় বলে জানা যায়।অন্যদিকে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ এদিন প্রকাশ্যে কোনও জমায়েত না করার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁরা বাড়িতেই আলাদা ভাবে নামাজ পড়েন। প্রতিবাদ জানাতে অনেকেই কালো ব্যাজ পরেন। এলাকার বহু দোকানও বন্ধ রাখা হয়। তাঁদের বক্তব্য, নতুন করে কোনও উত্তেজনা বা সংঘাত তৈরি করতে চান না তাঁরা।মসজিদ কমিটির প্রধান আবদুল সামাদ সংবাদমাধ্যমকে জানান, এলাকায় বহুস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। যাতে কেউ উত্তেজনা ছড়াতে না পারে, সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আদালতের রায়ের পর প্রশাসনের উচিত ছিল জায়গাটির পুরনো ধর্মীয় পরিবেশ বজায় রাখা। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই শান্তি বৈঠক হয়েছে বলেও জানান তিনি।মুসলিম পক্ষ জানিয়েছে, তারা শীঘ্রই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হবে। তাদের দাবি, দেশের ধর্মস্থান সংক্রান্ত আইনে স্বাধীনতার সময় যে ধর্মীয় স্থানের যা অবস্থান ছিল, তা বদল করা যাবে না। এই পরিস্থিতিতে নতুন করে সেই আইন নিয়েও বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, ভবিষ্যতে এই রায় আরও বড় আইনি ও রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে পারে।
Popular Categories


