বিহারের শিক্ষামন্ত্রী মিথিলেশ তিওয়ারির একটি মন্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। নারীশিক্ষা নিয়ে তাঁর বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষ— সকলেই সমালোচনায় সরব হয়েছেন। কেন্দ্রের মোদি সরকার যখন ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’ কর্মসূচির মাধ্যমে মেয়েদের শিক্ষার প্রসারে জোর দিচ্ছে, তখন এনডিএ শাসিত রাজ্যের এক মন্ত্রীর এ ধরনের মন্তব্য নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মিথিলেশ তিওয়ারি বলেন, মেয়েদের বেশি পড়াশোনা করার প্রয়োজন নেই। তাঁর মতে, নারীদের ঘরের কাজ সামলানো উচিত এবং বাড়ির মধ্যেই থাকা ভালো। তিনি আরও বলেন, মেয়েদের রাস্তায় নেমে আন্দোলন বা জনসমাগমে অংশ নেওয়ার দরকার নেই। তাঁর এই মন্তব্য সামনে আসতেই ব্যাপক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়।উল্লেখ্য, বিহার মন্ত্রিসভায় সাম্প্রতিক রদবদলের পর গোপালগঞ্জ জেলার বৈকুণ্ঠপুর কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক মিথিলেশ তিওয়ারি মন্ত্রী পদে আসীন হন। তবে মন্ত্রী হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই তাঁর এই বক্তব্য বিতর্ক বাড়িয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, একজন দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধির মুখে এ ধরনের মন্তব্য সমাজে ভুল বার্তা পৌঁছে দিতে পারে।সাক্ষাৎকার চলাকালীন এক ব্যক্তি মন্ত্রীর বক্তব্যের বিরোধিতা করে বলেন, মেয়েদেরও সমানভাবে শিক্ষা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। উত্তরে মন্ত্রী জানান, অধিকার মানুষ এমনিতেই পেয়ে যাবে। তাঁর এই মন্তব্য আরও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, রাজনীতিতে আসার আগে মিথিলেশ তিওয়ারি নিজেই একজন শিক্ষক ছিলেন। তিনি অর্থনীতিতে বিএ অনার্স ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং দীর্ঘদিন পাটনায় একটি কোচিং সেন্টার পরিচালনা করেছেন। ফলে নারীশিক্ষা নিয়ে তাঁর এই অবস্থান অনেকের কাছেই অপ্রত্যাশিত বলে মনে হয়েছে।সোশ্যাল মিডিয়াতেও বিষয়টি নিয়ে চলছে তীব্র আলোচনা। বহু নেটিজেন সংবিধানের ২১এ ধারার কথা তুলে ধরে বলেছেন, ৬ থেকে ১৪ বছর বয়সি প্রতিটি শিশুর বিনামূল্যে শিক্ষার অধিকার রয়েছে। সেখানে ছেলে-মেয়ের মধ্যে কোনও ভেদাভেদ করার সুযোগ নেই। যদিও কিছু মানুষ দাবি করেছেন, মন্ত্রীর বক্তব্যকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
Popular Categories


