বিহারের কিশনগঞ্জ জেলার একটি প্রত্যন্ত গ্রামের ছেলে মুমতাজ। ছোটবেলাতেই বাবাকে হারান তিনি। এরপর পরিবার পড়ে চরম আর্থিক সঙ্কটে। বড় ভাই জয়নুল আবেদীন নিজের পড়াশোনা ছেড়ে দেন, যাতে মুমতাজের পড়াশোনায় ব্যাঘাত না ঘটে। এমনই এক পরিস্থিতির মধ্যে মুমতাজের স্বপ্ন ছিল ডাক্তার হওয়া। কিন্তু মেডিকেল পরীক্ষায় সাফল্য না পাওয়া ও ব্যয়বহুল কোর্সে ভর্তি হতে না পারায় সেই স্বপ্ন থেমে যায়। তবে তিনি হার মানেননি। জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন শুরু হওয়া বায়োটেকনোলজি কোর্সে ভর্তি হন। এখান থেকেই শুরু হয় তার নতুন পথচলা।
উচ্চশিক্ষায় অসাধারণ ফলাফলের জন্য তিনি সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় ও কেন্দ্রীয় ওয়াকফ বোর্ডের বৃত্তি পান। এরপর জামিয়া হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্সে ‘তাসমিয়া মেরিট স্কলারশিপ’ অর্জন করেন। এরপর তিনি গবেষণার জন্য যান পুনের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সেল সায়েন্স-এ, যেখানে বিখ্যাত ভাইরোলজিস্ট ড. ভাস্কর সাহার অধীনে কাজ করেন মুমতাজ। জানা গিয়েছে তার গবেষণার বিষয় ছিল ,ফ্ল্যাভিভাইরাসের বিরুদ্ধে মানব শরীরের প্রাকৃতিক প্রতিরোধ ক্ষমতা। এই গবেষণার মাধ্যমেই তিনি যুক্তরাজ্যের সাউথ্যাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছান, যেখানে বর্তমানে তিনি একটি বিশ্বমানের টিকা গবেষণাগারে কাজ করছেন। মুমতাজ জানান, তিনি ভবিষ্যতে দেশে ফিরে গ্রামীণ ভারতের জন্য টিকা ও স্বাস্থ্যশিক্ষায় কাজ করতে চান।


