ভোট পরবর্তী হিংসা এবং ঘরছাড়াদের ফেরানোর মামলায় কলকাতা হাইকোর্টে বড়সড় অস্বস্তিতে পড়ল প্রাক্তন শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের ডিভিশন বেঞ্চ কড়া নির্দেশ দিয়েছে যে, রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে সমস্ত ঘরছাড়াকে দ্রুত বাড়ি ফেরাতে হবে। আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, পুলিশকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর হতে হবে এবং কোনো নাগরিকের ওপর জুলুম বরদাস্ত করা হবে না। রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূলের আমলে রাজ্যে যে ‘ভোট পরবর্তী হিংসা’র সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, নতুন সরকার ও আদালতের কড়া অবস্থানে তাতে লাগাম পড়তে চলেছে।
এদিন আদালতে সওয়াল করতে এসে নজিরবিহীনভাবে আইনজীবীর পোশাক পরে হাজির হন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দীর্ঘ বছর প্রশাসনিক পদে থেকেও হঠাৎ করে তাঁর এই ‘আইনজীবী’ অবতার নিয়ে রীতিমতো হইচই পড়ে যায়। তিনি রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতিকে উত্তরপ্রদেশের সাথে তুলনা করে সমালোচনা করার চেষ্টা করলেও, খোদ আইনজীবীদের একাংশই তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েন। আদালত চত্বরেই তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ ও স্লোগান দেওয়া হয়। সাধারণ আইনজীবীদের দাবি, ক্ষমতায় থাকাকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল বিরোধীদের ওপর যে অত্যাচার চালিয়েছে, এখন বিরোধী আসনে বসে ‘শান্তি’র কথা বলা তাঁর মুখে মানায় না।
সবচেয়ে বড় বিতর্ক দানা বেঁধেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনি পেশার শংসাপত্র নিয়ে। তিনি আদালতে নিজেকে ১৯৮৫ সাল থেকে আইনজীবী বলে দাবি করলেও, বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া (BCI) ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে। রাজ্যের বার কাউন্সিলের কাছে চিঠি পাঠিয়ে তারা জানতে চেয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী হিসেবে রেজিস্ট্রেশন আদৌ বৈধ কি না এবং তিনি নিয়ম মেনে পেশা স্থগিত বা পুনরায় শুরু করেছেন কি না। বিরোধীদের অভিযোগ, আদালতে সওয়াল করা আসলে মমতার একটি রাজনৈতিক নাটক মাত্র।
অন্যদিকে, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে যে, বিরোধীদের আনা অভিযোগগুলোর কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য বা ভিত্তি নেই। রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, আজ যে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তার বীজ বপন করেছিল তৃণমূল কংগ্রেসই। সমালোচকদের মতে, গত এক দশকে বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করার যে রাজনীতি তৃণমূল চালিয়েছে, আজ তারা নিজেরাই সেই পরিস্থিতির শিকার হচ্ছে। সব মিলিয়ে, আইনি লড়াইয়ের মঞ্চেও এখন তৃণমূল কংগ্রেস কার্যত কোণঠাসা।


