কলকাতা হাই কোর্ট একটি বাড়ি বেআইনিভাবে ভেঙে দেওয়ার অভিযোগে রাজ্য সরকারকে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছে। আদালত জানিয়েছে, উচ্ছেদ অভিযানের সময় কর্তৃপক্ষ যতটা ভাঙার আইনি ক্ষমতা পেয়েছিল, তার সীমা অতিক্রম করে আবেদনকারীদের পুরো ভবন ভেঙে দিয়েছিল। তাই আগামী দুই বছরের মধ্যে একই জায়গায় অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী নতুন ভবন তৈরি করে আবেদনকারীদের হাতে তুলে দিতে হবে। পাশাপাশি, নির্মাণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের বিনামূল্যে বিকল্প বাসস্থানের ব্যবস্থাও করতে হবে। ক্ষতিপূরণ হিসেবে দিতে হবে ১০ লক্ষ টাকা।বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের বেঞ্চ এই নির্দেশ দিয়েছে। আদালত স্পষ্ট করে জানিয়েছে, রায়ের সার্ভার কপি পাওয়ার দিন থেকে দুই বছরের মধ্যেই নতুন ভবন তৈরির কাজ শেষ করতে হবে। এরপর দ্রুত আবেদনকারীদের ভবনের দখল দিতে হবে। এই সময়সীমা কোনওভাবেই বাড়ানো যাবে না বলেও আদালত জানিয়েছে।মামলার সূত্রে জানা যায়, মৌজা-মাইশালির কয়েকটি জমিতে বেআইনি দখল রয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। পশ্চিমবঙ্গ হাইওয়েজ আইন, ১৯৬৪-এর ১০(২) ধারায় ব্যবস্থা নিয়ে দখল সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে আবেদনকারীরা জায়গা খালি না করায় ১০(৩) ধারায় আরও পদক্ষেপ করা হয়।আবেদনকারীদের বক্তব্য, স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী তাঁরা সেখানে একটি দোতলা বাণিজ্যিক ভবন তৈরি করেছিলেন। ওই ভবনেই তাঁদের একজন ব্যবসা চালাতেন। আদালতের আগের নির্দেশ অনুযায়ী নির্দিষ্ট দুটি প্লট থেকে দখল সরানোর কথা থাকলেও, প্রশাসন তার বাইরে গিয়ে অন্য একটি জমিতে থাকা তাঁদের নির্মাণও ভেঙে দেয় বলে অভিযোগ করেন আবেদনকারীরা।রাজ্যের পক্ষ থেকে অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়। তাদের দাবি ছিল, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী দখল সরানোর সময় কর্তৃপক্ষ কোনও সীমা অতিক্রম করেনি এবং আবেদনকারীরা তাঁদের অভিযোগের পক্ষে যথেষ্ট নথি দেখাতে পারেননি।তবে মামলার নথি ও উচ্ছেদ অভিযানের উপস্থিতির তালিকা খতিয়ে দেখে হাই কোর্ট ভিন্ন সিদ্ধান্তে পৌঁছয়। আদালত দেখতে পায়, নির্দিষ্ট প্লটের দখল সরানোর পাশাপাশি আবেদনকারীদের অন্য জমিতে থাকা নির্মাণও ভেঙে ফেলা হয়েছিল। আদালতের মতে, এই কাজ করার ক্ষেত্রে প্রশাসন তার আইনি সীমা অতিক্রম করেছে।ফলে আবেদনকারীদের বাড়ি বেআইনিভাবে ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে ধরে নিয়ে আদালত নতুন ভবন তৈরির নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে বিনামূল্যে বিকল্প থাকার ব্যবস্থা এবং ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়। আবেদনকারীদের হয়ে আইনজীবী কল্লোল কুমার বসু এবং রাজ্যের হয়ে জেএসসি লোকনাথ চট্টোপাধ্যায় সওয়াল করেন। শেষ পর্যন্ত আবেদনকারীদের করা রিট আবেদন মঞ্জুর করে আদালত।
উচ্ছেদের নামে আইনি সীমা লঙ্ঘন করে বাড়ি ভাঙলো রাজ্য সরকার, ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ ও নতুন ভবন তৈরির নির্দেশ কলকাতা হাই কোর্টের
Popular Categories

