আজ, ১ আগস্ট থেকে শুরু হল ‘সেন্সাস ২০২৭’-এর প্রথম পর্যায়। এই ধাপে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত চলবে স্ব-গণনা (Self-Enumeration) প্রক্রিয়া, যেখানে নাগরিকরা নিজেরাই অনলাইনের মাধ্যমে নিজেদের এবং পরিবারের সদস্যদের তথ্য জমা দিতে পারবেন। প্রশাসনের আশা, এই উদ্যোগের ফলে মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহের কাজ আরও দ্রুত ও নির্ভুল হবে।
স্ব-গণনার জন্য বাসিন্দাদের নির্ধারিত সরকারি ওয়েবসাইট https://se.census.gov.in/-এ লগ-ইন করে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করতে হবে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নাগরিকরা নিজেরাই তথ্য প্রদান করায় তথ্যের নির্ভুলতা অনেক বেশি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।
ফর্ম জমা দেওয়ার পর প্রত্যেক আবেদনকারী একটি ১১ অঙ্কের Self-Enumeration ID (SEID) পাবেন। কলকাতা পুরসভার প্রশাসক ও কমিশনার তথা কলকাতার প্রধান জনগণনা আধিকারিক স্মিতা পাণ্ডে জানিয়েছেন, পরবর্তীতে যখন গণনাকারীরা (Enumerator) বাড়ি বাড়ি যাবেন, তখন এই SEID নম্বরটি দেখাতে হবে। এর মাধ্যমে অনলাইনে জমা দেওয়া তথ্য তাঁরা যাচাই করতে পারবেন। তাই SEID নম্বরটি সংরক্ষণ করে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
পৌরসভার অনুমান, কলকাতার প্রায় ২৫ থেকে ৩০ লক্ষ মানুষ স্ব-গণনা প্রক্রিয়ায় অংশ নেবেন। ২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী কলকাতার জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৪৫ লক্ষ। প্রশাসনের আশা, বিপুল সংখ্যক মানুষ অনলাইনে তথ্য জমা দিলে পরবর্তী গণনার কাজ অনেক সহজ হবে।
স্ব-গণনার সময় কোনও ধরনের পরিচয়পত্র বা নথি আপলোড করতে হবে না। এমনকি পরে গণনাকারীরা বাড়িতে এলেও কোনও নথি দেখানোর প্রয়োজন হবে না বলে প্রশাসন জানিয়েছে।
এই কর্মসূচিকে সফল করতে কলকাতা পুরসভা প্রায় ৩০০টি বেসরকারি স্কুল এবং ৭০০টি সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলে চিঠি পাঠিয়েছে। শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যদের স্ব-গণনায় উৎসাহিত করার পাশাপাশি অষ্টম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের অন্তত ১০টি পরিবারকে অনলাইনে স্ব-গণনায় সহায়তা করার আবেদনও করা হয়েছে।
স্মিতা পাণ্ডে জানিয়েছেন, পুরো স্ব-গণনা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সাধারণত ১০ মিনিটের বেশি সময় লাগে না। যদিও এই অনলাইন স্ব-গণনায় অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক নয়।
প্রথম ধাপে ১ থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত চলবে স্ব-গণনা। এরপর ১৬ আগস্ট থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গণনাকারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে আবাসন ও পরিবারের বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করবেন। এই পর্যায়ে বাসস্থানের অবস্থা, পানীয় জল, শৌচাগার, বিদ্যুৎ, রান্নার জ্বালানি, ইন্টারনেট সংযোগ, পরিবারের সম্পদ, টেলিভিশন, কম্পিউটার, মোটরবাইক, চারচাকার গাড়ি-সহ বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
দ্বিতীয় ধাপে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে জনসংখ্যা গণনার কাজ হবে। সেই সময় পরিবারের সদস্যদের নাম, বয়স, লিঙ্গ, ধর্ম, জাতি-সহ বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হবে।ভারতে সাধারণত প্রতি ১০ বছর অন্তর জনগণনা অনুষ্ঠিত হয়। তবে কোভিড-সহ বিভিন্ন কারণে ২০২১ সালের জনগণনা স্থগিত হওয়ায় এবার প্রায় ১৫ বছর পর এই প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। যদিও কার্যক্রম ২০২৬ সালেই শুরু হয়েছে, চূড়ান্ত প্রতিবেদন ২০২৭ সালের মার্চ মাসে প্রকাশিত হবে বলেই এর নাম রাখা হয়েছে ‘সেন্সাস ২০২৭’।
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, অনলাইনে স্ব-গণনা করা ঐচ্ছিক। তবে মাঠপর্যায়ের গণনাকারী যখন তথ্য সংগ্রহ করতে আসবেন, তখন তাঁদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া আইনত বাধ্যতামূলক। ১৯৪৮ সালের আদমশুমারি আইন অনুযায়ী, কোনও ব্যক্তি গণনাকারীর প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকার করলে সর্বোচ্চ ১,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।


