সংসদীয় রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে এবার নজিরবিহীন ধস নামল। সুস্মিতা দেব এবং সুখেন্দু শেখর রায়ের পর এবার রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিলেন আলিপুরদুয়ারের তৃণমূল নেতা প্রকাশচিক বরাইক। রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের কাছে তিনি নিজের পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং বিশ্বস্ত হিসেবে পরিচিত এই নেতার আকস্মিক দলত্যাগে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। প্রকাশচিকের এই ইস্তফার ফলে রাজ্যসভায় তৃণমূলের আসন সংখ্যা তেরো থেকে কমে এক ধাক্কায় দশে এসে ঠেকল।
প্রকাশচিক বরাইক কেবল সাংসদ পদই ছাড়েননি, তিনি তৃণমূলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকেও ইস্তফা দিয়েছেন। দল ছাড়ার পর অন্য কোনও রাজনৈতিক শিবিরে যোগ দিচ্ছেন কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরে তিনি কেবল সময়ের ওপর ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেছেন। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেই নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে। প্রকাশচিকের আগে বর্ষীয়ান নেতা সুখেন্দু শেখর রায় তৃণমূলের বেলাগাম দুর্নীতি, নারী নির্যাতন এবং রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির অভিযোগ তুলে দল ও সাংসদ পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। তিনি একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করে স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে, রাজ্যের মানুষ তৃণমূল সরকারের চরম অপদার্থতার বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন।
সুখেন্দু শেখর রায়ের এই পথ অনুসরণ করেই অসমের নেত্রী সুস্মিতা দেবও তৃণমূলের সমস্ত পদ ও রাজ্যসভার সদস্যপদ ত্যাগ করেন। ইস্তফা দেওয়ার পরেই সুস্মিতা অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার সঙ্গে সাক্ষাৎ করায় তাঁর পরবর্তী পদক্ষেপ স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। একের পর এক হেভিওয়েট এবং শীর্ষ স্তরের সাংসদ যেভাবে দল ছাড়ছেন, তাতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূল কংগ্রেসের ওপর থেকে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণ আলগা হয়ে পড়েছে। এই ধারাবাহিক ভাঙন রাজ্যের শাসক দলের ভবিষ্যৎকে এক গভীর অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড় করিয়ে দিল।


