দেশভাগের সময় এবং তার পরের কয়েক বছরে বহু মানুষ ভারত ছেড়ে পাকিস্তান ও চিনে চলে যান এবং সেই দেশগুলোর নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন। তাঁরা ভারতে রেখে যাওয়া জমি, বাড়ি, গয়না ও শেয়ারের মতো সম্পত্তি পরবর্তীকালে সরকারের অধীনে চলে যায়। এই সম্পত্তিগুলোকে আইনের ভাষায় বিশেষ শ্রেণির সম্পদ হিসেবে ধরা হয়। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকার এই ধরনের সম্পত্তি বিক্রি করে বড় অঙ্কের অর্থ সংগ্রহ করেছে, বলে অভিযোগ উঠছে।
বুধবার রাজ্যসভায় দেওয়া এক লিখিত উত্তরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত এই সব সম্পদ বিক্রি করে প্রায় ২,৯৩০ কোটি টাকা আয় হয়েছে। তিনি বলেন, ১৯৪৭ থেকে ১৯৬২ সালের মধ্যে যারা দেশ ছেড়ে অন্য দেশে নাগরিক হয়েছেন, তাঁদের রেখে যাওয়া সম্পদ ১৯৬৮ সালের একটি আইনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এই সম্পত্তি দ্রুত বিক্রি করার জন্য কেন্দ্র সরকার প্রশাসনিক স্তরে একাধিক পরিবর্তন এনেছে। জেলা স্তরে শীর্ষ আধিকারিকদের নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং নিলাম প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে। আগের তুলনায় নিলামে অংশ নেওয়ার অগ্রিম টাকা কমানো হয়েছে এবং পুরো অর্থ জমা দেওয়ার সময়সীমাও বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া সম্পত্তির ন্যায্য মূল্য নির্ধারণের জন্য বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। বড় দামের সম্পত্তির ক্ষেত্রে পেশাদার মূল্য নির্ধারকদের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। সরকারের মতে, এই উদ্যোগের ফলে দীর্ঘদিন অব্যবহৃত সম্পদ দেশের অর্থনীতিতে কাজে লাগবে।


