ছত্তিশগড়ের কাঁকর জেলার আমাবেদা গ্রামে কবর দেওয়া নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার হিংসাত্মক পরিস্থিতি তৈরি হয়। সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন গ্রামবাসী ও পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন। উত্তেজনার মধ্যেই আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় দু’টি চার্চে, ক্ষতিগ্রস্ত হয় একাধিক বাড়িঘর।
ঘটনার সূত্রপাত বাদে তেওয়াদা গ্রাম পঞ্চায়েতে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৭০ বছর বয়সি চামরারান সালামের মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারের নিজস্ব জমিতে দেহ সমাধিস্থ করা হয়। তিনি ওই গ্রামের সরপঞ্চ রাজমান সালামের বাবা। কিন্তু এই কবর দেওয়াকে ঘিরেই আপত্তি তোলেন গ্রামের একাংশ মানুষ।
তাঁদের অভিযোগ, দাফন প্রক্রিয়াটি গোপনে করা হয়েছে এবং তা স্থানীয় আদিবাসী প্রথা অনুযায়ী নয়। কিছু গ্রামবাসীর দাবি, সরপঞ্চ খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করেছেন এবং সেই কারণেই খ্রিস্টান রীতিতে শেষকৃত্য করা হয়েছে—এই অভিযোগ ঘিরেই উত্তেজনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
খ্রিস্টান সংগঠনগুলির অভিযোগ, পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়ে ওঠে যখন একটি বড় জমায়েতের মধ্যে থেকে দাবি তোলা হয় যে জমিটি একটি স্থানীয় দেবতার নামে এবং সেখানে খ্রিস্টান দাফন করা যাবে না। এমনকি পেসা আইনের ব্যাখ্যা তুলে দেহ উত্তোলনের অধিকার রয়েছে বলেও প্রচার করা হয়।
গ্রামবাসীদের অভিযোগের ভিত্তিতে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট দেহ উত্তোলনের নির্দেশ দেন। পুলিশ জানিয়েছে, দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে এবং পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, তদন্তের ফল অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বুধবার থেকেই এলাকায় উত্তেজনা ছিল। বৃহস্পতিবার তা চরমে পৌঁছয় এবং দু’পক্ষের মধ্যে পাথর ছোড়াছুড়ি শুরু হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। সংঘর্ষে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার-সহ প্রায় ২০ জন পুলিশকর্মী এবং বেশ কয়েকজন গ্রামবাসী আহত হন।
জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে দু’পক্ষের মধ্যে আলোচনার আয়োজন করা হয়। শেষ পর্যন্ত দেহ গ্রাম থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়, কারণ স্থানীয়দের বড় অংশ সেখানে কবরস্থান রাখতে রাজি ছিলেন না।
অতিরিক্ত জেলাশাসক জানিয়েছেন, সরপঞ্চ খ্রিস্টান ধর্মে দীক্ষিত হয়েছেন—এমন বিশ্বাস অনেকের মধ্যে রয়েছে। তবে তাঁর বাবা হিন্দু ধর্মাবলম্বী ছিলেন। প্রশাসনের দাবি, শেষকৃত্যের ধর্মীয় রীতিনীতি নিয়েই মূলত বিরোধের সূত্রপাত।
এদিকে, খ্রিস্টান সংগঠনগুলির দাবি—এই ঘটনায় অন্তত দু’টি চার্চে আগুন লাগানো হয়েছে এবং খ্রিস্টান সংখ্যালঘুদের বাড়িঘরে হামলা চালানো হয়েছে। তাঁদের মতে, এই ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়।
পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছর দেশে কবর দেওয়া সংক্রান্ত একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে, যার বড় অংশই ছত্তিশগড়ে। সংগঠনগুলির অভিযোগ, বহু জায়গায় খ্রিস্টানদের তাদের পৈতৃক জমিতেও দাফনের অধিকার অস্বীকার করা হচ্ছে। অনেক গ্রামে খ্রিস্টানদের জন্য আলাদা কবরস্থান নেই, আর যে ক’টি আছে সেগুলি বসতি থেকে অনেক দূরে।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, এলাকায় পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যাতে নতুন করে কোনও অশান্তি না ছড়ায়।
এই ঘটনার মধ্য দিয়ে আবারও সামনে এল—ধর্মীয় পরিচয় ঘিরে সামান্য বিরোধ কীভাবে মুহূর্তে বড় সামাজিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে। প্রশ্ন উঠছে, সংবিধানপ্রদত্ত ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মর্যাদার সঙ্গে শেষকৃত্যের অধিকার কতটা সুরক্ষিত থাকছে।


